উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য
Printed Edition
উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার ৫০৬ জন মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে সুলভ ও সহজ চিকিৎসা পেতে আসা রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে, বিশেষ করে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি সক্রিয় দালালচক্র রোগীদের জিম্মি করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এ কাজে জড়িত দালালচক্র হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্যেই সক্রিয় থাকলেও কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কিছু চিকিৎসকের ছত্রছায়ায় এ চক্র পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে আসা রোগীরা প্রায়ই দালালদের হয়রানির শিকার হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, দু’জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে যোগসাজশ করে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা লিখে দেন। চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরপরই দালালরা রোগীর কাগজ নিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন।
গত সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালে ১০ থেকে ১৫ জন দালাল রোগী ধরতে ব্যস্ত। তারা কমিশনের বিনিময়ে আশপাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এ কমিশনের একটি অংশ চিকিৎসকরাও পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, অনেক সময় ব্যবস্থাপত্রের পেছনে নির্দিষ্ট সঙ্কেত লিখে দেয়া হয়, যা সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক নিজেরাই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করেন। সেখানে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এতে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বামরাইল ইউনিয়নের আয়শা খাতুন বলেন, ডাক্তারের রুম থেকেই দালালরা রোগীদের ধরে নিয়ে যায়। প্রেসক্রিপশন নেয়ার আগেই কাগজ নিয়ে নিজেদের নির্দিষ্ট সেন্টারে পাঠায়।
ওটার ইউনিয়নের ইসরাত জাহান জানান, তার শিশুকন্যার চিকিৎসার সময় ব্যবস্থাপত্রে একটি মোবাইল নম্বর লিখে পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়, যা তাকে সন্দিহান করে তোলে।
অন্য রোগীরাও জানান, হাসপাতালে এলেই বিভিন্ন পরীক্ষা ধরিয়ে দেয়া হয় এবং পরে দালালদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হয়। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলেও কাক্সিক্ষত সেবা মেলে না।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এস এম মাইদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, হাসপাতালে দালালি ও রোগী বাণিজ্যের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো রোগী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।