নাটোরে ‘বাঘ’ সদৃশ প্রাণীর দেখা মিলল বন বিভাগের দাবি বড় শিয়াল
Printed Edition
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ওষুধি গ্রাম সংলগ্ন একটি সড়কের পাশে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ আকৃতির একটি বন্যপ্রাণী দেখা যাওয়ার খবরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার আগে আমিরগঞ্জ বাজারের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতের পাশ দিয়ে প্রাণীটিকে হেঁটে যেতে দেখেন স্থানীয়রা।
শহিদুল্লাহ নামে এক যুবক দূর থেকে প্রাণীটির একটি ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘ভুট্টাক্ষেতের পাশ দিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আকৃতির প্রাণীটি হেঁটে যাচ্ছিল। আমি মোবাইলে ভিডিও করার সময় প্রায় দেড় শ’ মানুষ জড়ো হয়ে ওইটিকে তাড়া করে। তখন প্রাণীটি ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং আর সন্ধান মেলেনি।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় বাঘের আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান হোসেন জানান, আতঙ্কে সবাই সতর্ক থাকছেন এবং শিশুদের বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে সন্ধ্যার পর একা চলাচল না করতে এবং গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা এটিকে বাঘ মানতে নারাজ। রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘নাটোর কৃষিনির্ভর জেলা এবং সুন্দরবন থেকে অনেক দূরে। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আসার কোনো সুযোগ নেই। ভিডিও দেখে এটি একটি বড় আকৃতির শিয়াল মনে হয়েছে। এটি যদি বাঘ হতো, তবে মানুষকে দেখে পালিয়ে না গিয়ে আক্রমণ করত। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ তবে প্রাণীটি আসলেই কী, তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হবে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি আশপাশের জলাভূমি বা ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নিয়ে আছে।
এ দিকে নাটোর ফরেস্ট রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএফএনটিসি বন বিভাগ) মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে প্রাণীটিকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা না গেলেও এ অঞ্চলে বাঘের বসবাসের কোনো ইতিহাস নেই। এটি শিয়াল বা সমগোত্রীয় কোনো প্রাণী হতে পারে।
তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ অনুযায়ী যেকোনো বন্যপ্রাণী শিকার, আঘাত বা উত্ত্যক্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই গুজব বা ভুল ধারণার বশে প্রাণীটির কোনো ক্ষতি না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ পরবর্তী সময়ে প্রাণীটিকে আবার দেখা গেলে সেটিকে বিরক্ত না করে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী বন্যপ্রাণী বিভাগের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।