হতাশ কানাডাবাসীরা
Printed Edition
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কানাডার টরেন্টো। নিউ ইয়র্ক শহরের যত জায়গায় গিয়েছি কোথাও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নিয়ে কোনো মাতামাতি দেখিনি। প্যান স্টেশনে ট্রেনের মধ্যে কিছু প্রচার প্রচারণা। সে তুলনায় একেবারেই ভিন্ন কানাডার টরেন্টো। এখানে পা দেয়ার পর থেকেই বুঝা গেছে এই দেশে বিশ্বকাপের খেলা হচ্ছে। বিভিন্ন গাড়িতে কানাডার পাতাকার সাথে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকোর পতাকা। আর যারা একেবারেই কানাডিয়ান তাদের গাড়িতে দু’টি দেশের পতাকা। এতোদিন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার সর্ব উত্তরের এই দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ফুটবল নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকলেও গতকাল থেকে সেই উৎসাহ-উদ্বীপনায় ভাটা। কারণ ছুটে চলা কানাডার বিশ্বকাপ জয়রথ থেমে গেছে। তাদেরকে এখন দর্শক বানিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে মরক্কো। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে সেরা ১৬-এর ম্যাচে তাদের ০-৩ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। এতেই সব আশা শেষ কানাডার।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা। এর মধ্যে প্রথম দুইবার বাছাই পর্ব উৎরে। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সাথে যৌথ স্বাগতিক হয়ে। কানাডার বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা কিছু প্রাপ্তি এই ২০২৬ বিশ্বকাপেই। প্রথম পয়েন্টের দেখা পাওয়া। এরপর প্রথম জয়। সেই সূত্রধরে নকআউটে যাওয়া। সেই নকআউট বা সেরা ৩২-এর ম্যাচেও জয়। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেরা ১৬তে উঠলেও আর এগোনো সম্ভব হয়নি।
কনকাকাফ অঞ্চলের এই দেশে ফুটবলের স্বর্গভূমি টরেন্টো। নানান দেশের নানান জাতের মানুষের উপস্থিতি এই দেশে। বাংলাদেশী, পাকিস্তানি, ভারতীয় থেকে শুরু করে প্রচুর আফ্রিকানকে দেখা যাবে রাস্তাঘাটে। স্থানীয় কানাডিয়ানদের সাথে এই প্রবাসী বা ইমিগ্রেন্টরা বাঁচিয়ে রেখেছে কানাডর ফুটবল জনপ্রিয়তাকে। কিন্তু গতকাল মরক্কোর কাছে হারের পর এই ফুটবলপ্রেমীরা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছেন। টরেন্টোর পাশে এলিসটন প্রভেনশিয়াল পার্কে মোবাইলে কানাডা ও মরক্কোর খেলা দেখছিল ১৫/১৬ বছর বয়সী চার ছেলে। তাদের গায়ে বিশ্বকাপের লোগো ওয়ালা গেঞ্জি।
মরক্কো যখন প্রথম গোল করলো তখনই তারা ভেঙে পড়ে। এরপর দল হেরে গেলে ভীষণ মন খারাপ করে চলে যায়। আরিফুর রহমান মিলন নামের এক কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশী কানাডা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পরে ঘুরছিলেন। দল হেরে যাওয়ায় ভীষণ কষ্ট পেলেন তিনি। জানান, ‘কানাডার গত ম্যাচগুলোতেও ম্যাচের দিন কানাডার জার্সি পরেছি। এখন দল হেরে বাদ পড়ায় মন খারাপ।’
দ্ইু কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীর মধ্যে বাদানুবাদ হলো এই খেলা নিয়ে। দু’জনই কানাডার নাগরিক। তবে একজন মরক্কোকে সমর্থন করছিলেন মুসলিম দেশ হওয়ায়। এতে অপর বাংলাদেশীর প্রতিবাদ ছিল এ রকম। ‘কেন আপনি কানাডায় থেকে মরক্কোকে সমর্থন করছেন। কানাডায় থাকছেন, আপনারতো কানাডাকে সমর্থন করা উচিত।’