শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ড
ফয়সালকে পালাতে ‘সহায়তাকারী’ ফিলিপ সাংমাও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তাকারী হিসেবে যার নাম এসেছে, সেই ফিলিপ সাংমাও ভারতে ধরা পড়েছে।
গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার শান্তিপুরের কাছ থেকে তাকে আটক করে বলে কলকাতা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের অধিবাসী ফিলিপ সাংমাকে আটকের বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেফতার করে স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ সাংমা স্বীকার করেন যে, তিনি ফয়সাল করিম এবং আলমগীরকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে সহায়তা করেন। বাংলাদেশে গ্রেফতার এড়াতে পরে তিনি নিজেও অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়েন।
গ্রেফতারের পর ফিলিপ সাংমাকে আদালতে তোলার পর এখন পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে এসটিএফ জানিয়েছে।
এর আগের শনিবার দিবাগত রাতে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাকে মাথায় গুলি করার পর অততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ছয় দিন পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
হামলাকারী হিসেবে পুলিশ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগী আলমগীরকে চিহ্নিত করলেও তাদের ধরতে পারেনি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১২ ডিসেম্বর হামলা চালিয়ে ওই দিনই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।