সৈয়দপুরে ফাইলেরিয়া হাসপাতালের গাছ কেটে সাবাড়

Printed Edition
bangla-2
সৈয়দপুরে ফাইলেরিয়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে : নয়া দিগন্ত

জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বিশ্বের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটির চত্বর থেকে অবৈধভাবে গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই অন্তত ১০টি বড় মেহগনি গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন কামারপুকুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে গাছগুলো জব্দ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে হাসপাতালের পাশে অবস্থিত সুখিপাড়ার জনৈক তোতা মিয়া শ্রমিক লাগিয়ে গাছ কাটা শুরু করেন। দুই দিনে ১০টি বড় মেহগনি গাছ কাটা হয়। গত শনিবার আরো দু’টি গাছ কাটার প্রস্তুতি নেয়ার সময় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

অভিযুক্ত তোতা মিয়া দাবি করেন, হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা: মোয়াজ্জেম হোসেনের নির্দেশেই তিনি গাছ কাটছেন। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় যে বন বিভাগ বা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। হাসপাতালটি নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সিলগালার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা: আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনিয়ম ও আইনি জটিলতার কারণে হাসপাতালটি এখনো সিলগালা অবস্থায় আছে। গাছ কাটার বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাসপাতালটি নতুন করে চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। সৈয়দপুর উপজেলা সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইকুল ইসলাম মুস্তাকুর জানান, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বন বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো আবেদন বা অনুমতি নেয়নি।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছি এবং কর্তনকৃত গাছগুলো জব্দ করেছি। সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ডা: মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিসয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।