ভোটের তারিখ মেনে তফসিল পুনঃ সংশোধনের দাবি এনসিপির

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের তারিখ বজায় রেখে নির্বাচনী তফসিলের অন্যান্য দিনগুলো পুনঃ সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ইসিকে সবার প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গতকাল এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠকে এ দাবি জানান। পরে ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন না হওয়ায়, ভোটের তারিখ পরিবর্তন না করে নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘সিইসি আমাদের জানিয়েছে, তিন বাহিনী প্রধানকে তারা ইতোমধ্যে ডেকেছেন এবং তাদের সাথে আলোচনার পর তারা নির্বাচনের সক্ষমতা রাখছেন। আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনোভাবেই ভোটের তারিখ পিছানো যাবে না। কারণ, আওয়ামী লীগ এবং ভারতের কিছু পদক্ষেপ নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে এনসিপি আরো জানিয়েছে, কিছু প্রবাসী ভোটার টেকনিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ জন্য তারা পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করেছেন। সিইসি আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এনসিপি নেতা বলেন, ‘গণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক উদ্যোগ আমরা এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উভয়ই দেশের সাসটেইনেবল উন্নয়ন ও সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, একটি দল ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট নাম না উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্প্রীতি ও সংহতিকে প্রাধান্য দিতে সব দলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। তবে যারা ইতোমধ্যেই প্রচারণা চালাচ্ছে, তা নজরে রাখতে হবে।’

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন প্রার্থী ইতোমধ্যেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সিইসি আশ্বাস দিয়েছেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বাত্মকভাবে বাড়ানো হবে। তিন বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সাথে মিটিং হয়েছে এবং তারা সহযোগিতা করবেন।’

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী শেষের দিকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, ‘জনগণ গণভোটে অংশগ্রহণ করুন এবং একটি সুন্দর, স্থিতিশীল ও সংস্কারমুখী বাংলাদেশ গঠনে সহায়তা করুন।’