ঈদে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পটগুলো

পাহাড়, সাগর আর ঝরনার মিলনে এক অনন্য পর্যটন গন্তব্য

Printed Edition
3rd-2
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পর্যটন স্পট : নয়া দিগন্ত

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

এবারের ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে গন্তব্য হতে পারে চট্টগ্রামের মিরসরাই। পাহাড়, সাগর, নদী আর ঝরনার অপূর্ব সমন্বয়ে গড়া এই জনপদ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। স্বল্প সময়ে বহুমাত্রিক সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে প্রতি বছরই এখানে ভিড় করেন ভ্রমণপিপাসুরা।

পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঝরনার জল, আঁকাবাঁকা হ্রদের শান্ত বিস্তার আর কয়েক কিলোমিটার দূরে সমুদ্রসৈকতে নৌকার ছুটে চলা- সব মিলিয়ে মিরসরাই যেন এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম। কখনো দেখা মিলবে হরিণ, শিয়াল কিংবা বনমোরগের; কখনো শোনা যাবে পাখির কলতান আর ঝিঁঝি পোকার সুর।

মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে সারি সারি পাহাড় আর ঝরনা, পশ্চিমে সমুদ্রসৈকত এবং উত্তরে বহমান নদী- ভূপ্রকৃতির এই বৈচিত্র্যই মিরসরাইকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

এ অঞ্চলে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া, মুহুরী সেচ প্রকল্প, আরশিনগর ফিউচার পার্ক, সোনাপাহাড় প্রকল্প, ডোমখালী ও শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত, খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, বোয়ালিয়া ও সোনাইছড়ি ঝরনাসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট।

আরশিনগর ফিউচার পার্ক

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকায় প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত আরশিনগর ফিউচার পার্ক। এখানে রয়েছে কৃত্রিম ঝরনা, বাগান, নাগরদোলা, স্পিডবোট, প্যাডেল বোট, কিডস জোন, ভাস্কর্য, রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন সেন্টার ও বার-বি-কিউ সুবিধা।

শতাধিক প্রজাতির বৃক্ষের ছায়াঘেরা এই পার্কে রাতযাপনের জন্য রয়েছে আধুনিক কটেজ, পিকনিক স্পট এবং বিয়ে-সেমিনারের জন্য বড় হলরুম।

শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে গড়ে ওঠা সুপার ডাইক ঘেঁষে তৈরি হয়েছে নতুন আকর্ষণ শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত। জোয়ার-ভাটার খেলায় সৈকতটি রূপ নেয় ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্যে। ২০১২ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরুর পর বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে নির্মিত ডাইক এলাকাটিকে দিয়েছে নতুন রূপ। বসুন্ধরা পয়েন্টে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ডোমখালী সমুদ্রসৈকত

বছরের শেষ দিক থেকে শুরু করে ছুটির মৌসুমে ডোমখালী সমুদ্রসৈকতে বাড়তে থাকে পর্যটকের ভিড়। বিকেলের দিকে জমে ওঠে জনসমাগম, বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী থেকে গজারিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা এখন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে।

খৈয়াছড়া ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য

প্রকৃতির নান্দনিকতায় ভরপুর খৈয়াছড়া ঝরনা ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। ঝুমঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝরনার জলে অবগাহন করে মানুষ ভুলে যায় নগরজীবনের ক্লান্তি। অনেকে চাঁদের আলোয় ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটান।

হিলসডেল মাল্টি ফার্ম ও মধুরিমা রিসোর্ট

অলিনগর এলাকায় গড়ে ওঠা এই খামার ও রিসোর্টে রয়েছে হরিণের খামার, নানা প্রজাতির বৃক্ষ, পাখি ও প্রাণী। প্রায় ৩৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এখানে হরিণগুলোর লালন-পালন করা হয়।

সূর্যের দেখা মেলে মুহুরীর চরে

মুহুরীর চর প্রকৃতির এক অপূর্ব লীলাভূমি। এখানে আলো-আঁধারির খেলা, নদী ও সাগরের মিলন, আর জীবিকার নানা চিত্র একসাথে ধরা দেয়। ডিঙি নৌকায় কিছুদূর এগোলেই দেখা মেলে সাদা বক ও অতিথি পাখির। বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ছড়িয়ে থাকে নিসর্গের অনাবিল সৌন্দর্য।

দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া

দুর্গাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মহামায়া লেক প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাহাড়ঘেরা এই লেকে রয়েছে বোটিং, কায়াকিং ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা। পাহাড়ি ঝরনার শীতল পানি আর লেকের স্বচ্ছতা ভ্রমণকারীদের দেয় প্রশান্তির অনুভূতি।

মহামায়া ইকোপার্কের ম্যানেজার তসলিম উদ্দিন তৌহিদ জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের বরণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতি বছরের মতো এবারো পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের আশা করা হচ্ছে।