ঢাবিতে স্মরণ সন্ধ্যায় বক্তারা
আল্লামা ইকবাল সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জাগরণের কণ্ঠস্বর
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল শুধু পাকিস্তানের কবি নন; তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি, তার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘ দিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে। গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় অনুষ্ঠিত ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মনিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই (সাবেক চেয়ারম্যান, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়); হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ (ইরানি কবি ও আলেম); এবং অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী (উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- জাকির আবু জাফর (কবি), মুহাম্মদ তানিম নওশাদ (লেখক ও গবেষক), ড. ফজলুল হক তুহিন (গবেষক ও কবি), আবদুল কাদের জিলানী (ইকবাল গবেষক) এবং আরিফ সোহেল (প্রতিনিধি, গণবিপ্লবী উদ্যোগ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো: মহিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ শীর্ষক গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে চার হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে মূল্যবান বই ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য শুধু পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। আজ ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আজ বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ, যা আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছে।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাওসার আবুল উলাই জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ইকবালের দর্শন পড়ানো হচ্ছে এবং দ্য রিকন্সট্রাকশন অব রিলিজিয়াস থট ইন ইসলাম’সহ আত্মচেতনা (খুদি) বিষয়ক দর্শনের ওপর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গবেষণাপত্র রচনা করেন।
এ ছাড়া অন্যান্য বক্তারাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইকবালচিন্তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত শ্রোতাদের এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী শিশুদের জন্য আল্লামা ইকবালের বিখ্যাত দোয়া সুরের সাথে পরিবেশন করে। পাশাপাশি ইকবালের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষাংশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপরিচিত কাওয়ালি দল ‘সিলসিলা ব্যান্ড’ ‘খুদি কা সিরে নিহাঁ’ এবং ‘হার লহজা হ্যায় মুমিন কি নই আন নই শান’ প্রভৃতি ইকবালীয় কাওয়ালি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।