নওপাড়া বাজারে সরকারি জমি দখল করে ভবন নির্মাণ

Printed Edition

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার নওপাড়া বাজার এলাকায় সড়ক ও সরকারি খাসজমি দখল করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদে এবং জনস্বার্থে এটি বন্ধের দাবিতে লৌহজং, সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার ১২২ জন বাসিন্দা জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তিন উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত নওপাড়া বাজারটি অত্র অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বাজারের প্রবেশমুখেই সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের ফলে রিকশা ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকছে। স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন মোল্লা বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের দুই পাশে ২০০ মিটারের মধ্যে দু’টি সেতু রয়েছে। ভবনটি নির্মিত হলে ভবিষ্যতে সড়ক প্রশস্ত করার কোনো সুযোগ থাকবে না, যা দীর্ঘমেয়াদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।

অভিযোগ উঠেছে, বৌলতলী ইউনিয়নের পূর্ব নওপাড়া গ্রামের মো: বাতেন মিয়া প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে চারতলা ভেতের ওপর এই মার্কেট নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের মতে, ইতঃপূর্বে বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তিনি এই জমি দখলে নেন। সে সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি আবারো ক্ষমতাসীন মহলের আশীর্বাদে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করে ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ী বিপ্লব বেপারী জানান, ৬০০ দোকানের এই বাজারে তিন উপজেলার মানুষ প্রতিদিন কেনাকাটা করতে আসেন। বাজারের প্রবেশমুখে অবৈধ ভবনটি হওয়ার ফলে যানবাহনগুলোকে সড়কের ওপরেই দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত বাতেন মিয়ার দাবি, ভবনটি খাস জমিতে পড়লে তিনি কাজ করবেন না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন

লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী রাস্তার পাশে ১০ ফুট জায়গা না রেখেই ভবনটি করা হচ্ছে, যা আইনের পরিপন্থী। সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনটি সরকারি রাস্তার কিছু অংশ দখল করেছে। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমি মেপে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটি নিজস্ব সীমানার বাইরে সরকারি খাসজমি ও এলজিইডির জায়গা দখল করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।