প্রেস মালিকদের উৎপাদন সক্ষমতা যাচাইয়ে সক্রিয় হচ্ছে এনসিটিবি

আজ থেকে মাঠে নামছে ১৪ পরিদর্শন টিম

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

বিগত বছরের গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে এবার বই ছাপার কাজ শুরুর আগেই প্রেস মালিকদের উৎপাদন সক্ষমতা যাচাইয়ে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণের টেন্ডার মূল্যায়নের আগেই আজ মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একযোগে মাঠে মাঠে নামছে ১৪টি টিম। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় কাজ করবে ১০টি টিম আর ঢাকার বাইরের প্রেসগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ে কাজ করবে চারটি টিম। নির্দিষ্ট ১২টি বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে তথ্য সংগ্রহ করে আগামী পাঁচদিন সবগুলো টিম একনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। আগামী শনিবার তারা পরিদর্শন করা প্রেসগুলোর সক্ষমতা বিষয়ে একটি পরিপূর্ণ প্রতিবেদন এনসিটিবিতে দাখিল করবে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রেসগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী বই মুদ্রণের কাজ পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের বিনামূল্যের বই মুদ্রণে গত বছর অনেকগুলো প্রেস তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বই মুদ্রণের কাজ পেয়েছিল। কিন্তু পরে তারা সময়মতো বই মুদ্রণ করে এনসিটিবিকে সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে এসব দুর্বল প্রেসকে কাজ দেয়ার কারণে বেকায়দায় পড়তে হয়েছিল এনসিটিবিকে। বছরের শেষ দিকে এমনকি নতুন বছর শুরু হওয়ার পরও বেশ কিছু প্রেস তাদের দায়িত্বে থাকা বই মুদ্রণ করে দিতে ব্যর্থ হয়। পরে অবশ্য এনসিটিবি দায়িত্ব নিয়ে বিকল্প প্রেস থেকে বই ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। গত বছরের এই খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে চলতি বছর এনসিটিবি এবার আগেই প্রেসগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। কোন প্রেসে কতগুলো মেশিন রয়েছে কিংবা কোন ক্যাটাগরির মেশিন দিয়ে দৈনিক কত রিম কাগজে বই মুদ্রণের সক্ষমতা তাদের রয়েছে সব বিষয় আগেভাগেই যাচাই করা হবে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগের বছরগুলোতে নামে মাত্র প্রেসগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের এক ফর্দে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে প্রেস মালিকদের সবুজ তালিকাভুক্ত করা হতো কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার ছয় ফর্দে নির্দিষ্ট ১২টি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে প্রেসে স্থাপিত প্রিন্টিং মেশিনের বিস্তারিত তথ্য, এগুলোর নাম, সাইজ, পরিচিত নম্বর, প্রস্তুতের তারিখ, উৎপাদনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠান, প্রতিস্থাপনের তারিখ, উৎপাদনের শুরুর তারিখ ও উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে আনা হবে। একই সাথে প্রেসগুলোতে প্রতিস্থাপিত অটো ইন্টারলিখ মেশিনের তথ্য, ম্যানুয়াল ইন্টারলিফের তথ্য (এর মধ্যে থাকবে স্টাফের সংখ্যা, জনবল, স্টাফের ধরন, স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা), অটো গ্লুবাইন্ডিং মেশিনের তথ্য, কাটিং মেশিনের তথ্য, ইউভি মেশিনের তথ্য, অটো বান্ডেল মেশিনের তথ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বা জেনারেটরের তথ্য, সিসিটিভির তথ্য, কম্পিউটারের তথ্য, টয়লেট এবং কর্মচারীদের বিশ্রামাগারের তথ্য, প্রেসের অবস্থান এবং জমির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য (কত শতাংশ বা কত বর্গমিটার), মালিকের ট্রেড লাইসেন্সের আপডেট তথ্য এবং প্রেসে স্থাপিত সবগুলো প্রিন্টিং, বাইন্ডিং এবং কাটিং মেশিন একই সাথে সবগুলো বিদ্যুৎ সংযোগে চলতে পারে কি না তার তথ্যও নির্দিষ্ট ফরমের মাধ্যমে পরিদর্শন টিম সংগ্রহ করে এনসিটিবিকে অবহিত করবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি পরিদর্শন টিম তাদের সংগৃহীত তথ্যের সত্যতা যাচাইপূর্বক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর এর পুরো দায়ভার সংশ্লিষ্ট ওই পরিদর্শন টিমের প্রধান এবং পুরো টিমকেই বহন করতে হবে। দাখিলকৃত প্রতিবেদনের কোনো তথ্যের গরমিল বা ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একক কিংবা সমষ্টিগতভাবেও দায়ী থাকবেন।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার এনসিটিবির চেয়ারম্যান (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী নয়া দিগন্তকে জানান, আগেও প্রেসগুলোর সক্ষমতা যাচাই করা হতো। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে এরপরও প্রেসগুলো তাদের নিজেদের সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত বই মুদ্রণের কাজ নিয়ে এনসিটিবিকেই বছর শেষে বেকায়দায় ফেলত। তাই এবার আমরা আগেই টেন্ডারে অংশ নেয়া সবগুলো প্রেস সরেজমিন পরিদর্শনে টিম পাঠিয়ে বাস্তব চিত্র এবং প্রেসগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকেই আমাদের ১৪টি টিম মাঠপর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করবে। আমরা শুধু মাঠপর্যায়ে সরেজমিন গিয়েই তথ্য সংগ্রহ করে বসে থাকব না, সিসি ক্যামেরায় সংযোগের মাধ্যমে এনসিটিবিতে বসেই সবগুলো প্রেসে নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমাদের এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য একটাই আর সেটি হলো শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে মানসম্পন্ন বই তুলে দেয়া। এটি সম্ভব হলেই আমাদের সব প্রচেষ্টা সফল হবে।