কপ ৩০ পরবর্তী কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ জরুরি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসঙ্ঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ)-এ বাংলাদেশের স্বার্থ, অবস্থান ও অগ্রাধিকার বিশ্বমঞ্চে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হলে দেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দেশের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা অন্য পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সব সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সঙ্কটে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো করতে কপ সম্মেলনে উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
গতকাল রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জাতিসঙ্ঘ জলবায়ু সম্মেলন ২০২৫ (কপ ৩০)-এ অংশগ্রহণ পরবর্তী ডি-ব্রিফিং কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশ। নানা সীমাবদ্ধতা ও সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও সমস্যাগুলোর সমাধানের সক্ষমতা দেশের মধ্যেই রয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য প্রযুক্তিনির্ভরতার পাশাপাশি মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের প্রসঙ্গ টেনে ফরিদা আখতার বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে অনেক সময় খামারিরা বিদেশী জাতের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দেশীয় জাত অনেক বেশি উপযোগী ও টেকসই। বিদেশী জাতের পশুপালনে যে মাত্রার সেবা, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়, দেশীয় জাতের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে কম। তাই কেবল উৎপাদন বাড়ার হিসাব ধরে বিদেশী জাত আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়; বরং দেশীয় জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য একটি দক্ষ ও শক্তিশালী এক্সপার্ট গ্রুপ গঠন জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের একটি অংশ ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অর্গানিজম (জিএমও) থেকে সৃষ্ট সম্ভাব্য সমস্যার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ এর প্রভাব মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও পড়ছে। শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, মানুষের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
কর্মশালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকার সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের এক্সপার্টাইজকে একত্রে নিয়ে কাজ করতে চায়। কপ ফান্ড পাওয়া না গেলেও দেশের স্বার্থে নিজস্ব উদ্যোগে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সচিব জানান, জলবায়ু খাতে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিচ্ছে। একই সাথে জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই জলবায়ু সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সফিউল্লাহ। ব্রাজিলের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ড. মো: তৌহিদুল ইসলাম এনডিসি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মশালায় যুক্ত হন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুল ইসলাম খান। এ ছাড়া বারসিকের পরিচালক ও প্রাণবৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ বিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থ এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটর সোহানুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মো: ওয়ালি-উল-হক, পিকেএসএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ এবং পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক। উন্মুক্ত আলোচনা সঞ্চালনা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার এবং পুরো কর্মশালার সঞ্চালনায় ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সহযোগিতা অনুবিভাগের যুগ্মসচিব শাহীনা ফেরদৌসী।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।