খুলনায় ঈদের ছুটির মধ্যেই চলেছে হানাহানি

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় পবিত্র ঈদেও হানাহানি বন্ধ রাখেনি দুর্বৃত্তরা। বন্ধের প্রথম দিনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একই পরিবারের চারজন আহত হয়। এ ছাড়া নগরীর মহেশ্বরপাশায় পুলিশের টহল টিম ও হরিণটানায় চেকপোস্টে গুলিবর্ষণ, শিশু নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার ও কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব দুঃসংবাদ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ঈদ উদযাপন করেছে সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পর গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর হরিণটানা গেটসংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থান থেকে সাড়ে চার বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্ভাগা নগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা শাহাজালালের মেয়ে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: তুহিনুজ্জামান জানান, সোমবার দুুপুরে বাবা-মায়ের সাথে সাথে শিশুটি মামার বিয়ের দাওয়াত খেতে নগরীর সাচিবুনিয়া মোহাম্মাদপুর এলাকায় যায়। সেখানে পরিচিত এক দাদা জান্নাতুল মাওয়াকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে যায়। মেয়ের ফিরে আসতে দেরি দেখে মা ফোন দেয়। সে সময় বিপরীত থেকে তাকে জানানো হয় জান্নাতুল মাওয়া আইসক্রিম খাচ্ছে, ওর যেতে একটু দেরি হবে। এরপর থেকে পরিচিত সেই দাদার ফোন বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর থেকে মাওয়াকে ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকে। কিন্তু না পেয়ে বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে হরিণটানা গেটসংলগ্ন একটি ফাঁকা স্থান থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। লাশের পাশে একটি দড়ি ছিল।

এদিকে, একই দিন রাতে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর থেকে লাপাত্তা হয়েছেন স্ত্রী খুকুমনি। গ্রামবাসীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর ফজলু গাজীর (৬৬) সাথে দ্বিতীয় স্ত্রী খুকুমনির কথা কাটাকাটি হয়। রাত ৮টার দিকে খুকুমনি স্বামীকে শ্বাসরোধ ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করে পালিয়ে যায়। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী পরিত্যক্ত খুকুমনিকে বিয়ে করেছিলেন ফজলু গাজী। কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

অপরদিকে চাঁদাবাজি মামলায় চয়ন ব্যাপারি নামে একজন আটক হয়েছেন। তিনি খুলনা সদর থানার গোলাম মোস্তফার ছেলে। র‌্যাব জানায়, খুলনা সদর থানায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি মামলার এক আসামি পূর্ব রূপসা বাসস্টান্ডে অবস্থান করছে মর্মে সংবাদ র‌্যাব-৬ এর একটি টিম সেখানে যেয়ে আসামি চয়ন ব্যাপারিকে আটক করে। পরে তাকে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এ দিকে, গত মঙ্গলবার রাতে সদর থানার জাহিদুর রহমান সড়কের একটি বাড়ি থেকে কুলসুম আক্তার সাথী (২৮) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে নগরীর লবণচরা থানার টেক্সটাইল কলেজে পড়ত। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গোয়াবাড়ি গ্রামের কামরুল ইসলাম তালুকদারের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, সাথী নগরীর জাহিদুর রহমান সড়কের শামীমা নাসরিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার মেসে বসবাস এবং পড়াশুনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করত। মঙ্গলবার সকালে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি করে দরজা ভেঙে সাথীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। খুলনা থানার ওসি কবির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সাথী আত্মহত্যা করেছে ।

ঈদের আগে গত বৃহস্পতিবার পরকীয়ার জের ধরে ঘরের ভেতর ঢুকে গুলি করে একই পরিবারের চারজনকে আহত করে দুর্বৃত্তরা। লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর ঠিকরাবাদ এলাকার এ ঘটনায় কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী রঞ্জুয়ারা বেগম, ছেলে রাইছুল ইসলাম ও তার ছোট ছেলে রাশিদুলের স্ত্রী ফাহিমা আহত হন। এদের মধ্যে রঞ্জুয়ারা বেগম ও ফাহিমাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, কাজী আনিসের ছেলে রাশিদুল মাদকের একটি মামলায় তিন বছর আগে জেলে থাকতে ইমরান নামের এক যুবকের সাথে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে রাশিদুল তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করার সুযোগে ইমরানের স্ত্রী ফাহিমার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছয় মাস আগে ইমরান আবার একটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ফাহিমাকে বিয়ে করে। এ ঘটনা জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইমরান বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনা ঘটায়। লবণচরা থানার ওসি মো: তুহিনুজ্জামান বলেন, পরকীয়ার জের ধরে এ গুলির ঘটনা ঘটে।

এ দিকে, নগরীর মহেশ্বরপাশায় পুলিশের চেকপোস্টে গুলির ঘটনায় হাসিবুল আলম সজল নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল কলেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সজল খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ মোড়ের মৃত এহসানুল আলমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ মার্চ রাতে দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা ফাঁড়ির সামনে পুলিশের চেকপোস্ট লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। সজলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ দু’টি মামলা রয়েছে।