একজন পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু শুধু একজন মানুষের মৃত্যু নয়, এর সাথে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতও থমকে যায় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো: মাসুদ রানা। তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা রাষ্ট্র ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। সমৃদ্ধ দেশ, জাতি ও মানবিক সমাজ গড়তে রাষ্ট্র, প্রশাসন, মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার প্যারাইরচক ট্রাক টার্মিনালে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুবরণকারী ১৮ পরিবহন শ্রমিকের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এডিসি মাসুদ রানা বলেন, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ইউনিয়ন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এ ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা পুলিশের প্রতিপক্ষ নয়; বরং সহযোগী। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও অঙ্গহানি কমাতে চালকদের আইন মেনে ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবহন শ্রমিকদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্র ও জনগণের যেকোনো প্রয়োজনে পুলিশ সবসময় পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট রিজিওনের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো: রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের টিআই হাবিবুর রহমান, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজির আহমদ স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক।

সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম আহমদ লস্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাউছার আহমদ, সহ-সভাপতি শরীফ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ স্বপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাছুম আহমদ, দফতর সম্পাদক বিলাহ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জুলহাস হোসেন বাদল, কার্যকরী সদস্য কামাল হোসেন, আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম, ইলিয়াস আহমদ, আলেখ আহমদ সুহেল, প্রবীণ শ্রমিক নেতা মহসিন মিয়া, ইউসুফ ও মন্তাজ মিয়াসহ বিভিন্ন উপ-কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে সংগঠনের আওতাধীন বিভিন্ন উপ-কমিটির মৃত্যুবরণকারী ১৮ শ্রমিকের পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। অনুদানের অর্থ হাতে পেয়ে মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।