৮ মাসেও অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়নি ৫ দেশ ও উন্নয়ন সংস্থা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
দেশের পটপরিবর্তন ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসলেও বৈদেশিক সংস্থা ও দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। বরং ভারত, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ পাঁচটি দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে অর্থবছরের আট মাসেও (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) কোনো ধরনের প্রতিশ্রতি পাওয়া যায়নি। তবে দেশগুলো
পুরো প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে অর্থ ছাড় করেছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সোমবারের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে। ইআরডির তথ্যে বলা হয়েছে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদেশীদের অর্থসহায়তার ছাড় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৮ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার কমেছে। যেখানে একই সময়ে প্রতিশ্রুতি কিছুটা বেড়েছে। সে সাথে পরিশোধের চাপও বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা মোট ৩০৫ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের ঋণ ছাড় করেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪১৩ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ ছাড় কমেছে ১০৮.১৩ কোটি ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আট মাসে প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা এসেছে ২৪৩ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার; যা আগের অর্থবছর একই সময়ে ছিল ২৩৫ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ফলে প্রতিশ্রুতি কিছুটা বেড়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতিতে অনুদানের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং ঋণ ছিল ২২৯ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
ইআরডির জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছর আট মাসে বাংলাদেশকে সুদ ও আসল বাবদ ২৮৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার উন্নয়ন সহযোগীদেরকে পরিশোধ করতে হয়েছে। যার মধ্যে আসল বাবদ ১৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ঋণের সুদ ৯৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর আগের বছর সুদাসলে পরিশোধ করা হয় মোট ২৬৩ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর মধ্যে সুদ বাবদ ৯৪ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং আসল দিতে হয়েছে ১৬৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার। ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিশোধ ২৬ কোটি ডলারের বেশি।