আজ চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিন দিনের সফরে আজ চীন যাচ্ছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা চীনে উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর। এই সফরে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অন্যান্য প্রকল্প হাতে নেয়ার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরে অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহায়তা, রোহিঙ্গা সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
সফরসূচি অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। পরদিন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন ই’র সাথে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। একই দিনে চীনের উন্নয়নমন্ত্রীর সাথেও তিনি বৈঠক করবেন। এ ছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের তার বৈঠক হবে। সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ মে ঢাকা ফিরবেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী হিসাবে থাকবেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পথ ধরে বর্তমান বিএনপি সরকার চীনের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর চীনের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বার্তা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর তারেক রহমানকে লেখা অভিনন্দন বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নতুন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গত ১৬ এপ্রিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বেইজিং সফরে যান। প্রতিনিধি দল ১৬ এপ্রিল চীন গেলেও ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে মির্জা ফখরুল যুক্ত হন ২০ এপ্রিল। কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়াও চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান চেংয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার ‘এক চীন নীতি’র প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং চীনের সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ক বজায় রাখবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে তুরস্ক গিয়েছিলেন। এতে অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় সফরে তিনি ভারত গিয়েছেন। এই সফরে ভিসা সহজীকরন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদীর হত্যায় জড়িত ও ভারতে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ, জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটিকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সরকারি সফর’ হিসেবেই গণ্য করেছে। আর তৃতীয় সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় চীনকে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। এর ভিত্তিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে প্রকল্পের অর্থায়ন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায় (ফেইজ-১) বাস্তবায়নে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের প্রয়োজন, যার মধ্যে চীন থেকে ৫৫ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য হলো তিস্তা নদীর অববাহিকার টেকসই ব্যবস্থাপনা। এই প্রকল্পের আওতায় কৃষি, সেচ, পানি সংরক্ষণ, নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার মতো বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের পানিসঙ্কট নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।