শিক্ষকরা চান আগে পদায়ন সরকার দিতে চায় প্রশিক্ষণ

প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে দোটানা

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাইছেন আগে তাদের নিয়োগ বা পদায়ন হোক। অন্য দিকে সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে পদায়নের আগে নতুন এই শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে আবেদন দিয়ে শিক্ষকরা আগে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition
Teacher

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সঙ্কটের মধ্যেই ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে দোটানা শুরু হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চাইছেন আগে তাদের নিয়োগ বা পদায়ন হোক। অন্য দিকে সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে পদায়নের আগে নতুন এই শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেয়া। এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে আবেদন দিয়ে শিক্ষকরা আগে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের একটি সূত্র জানায়, ছয় মাস আগে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও এখনো যোগদান হয়নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের। তাদের আগে প্রশিক্ষণ এবং পরে পদায়ন করা হতে পারে বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিয়ম মেনে আগে তাদের পদায়ন এবং পরে প্রশিক্ষণে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানিয়েছেন তাদের বিনীত ও যৌক্তিক প্রত্যাশা হলো- প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুর আগেই বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন করে নিয়োগপত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম সংযুক্ত করা হোক। বিশেষ করে জটিলতার আশঙ্কার কথা জানিয়ে তারা বলেন, পদায়ন সম্পন্ন না হলে বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশিক্ষণ আগে হলে পদায়ন ও বেতন কার্যক্রম সম্পন্ন হতে আরো কয়েক মাস অতিবাহিত হতে পারে, যা নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে।

শিক্ষকরা আরো জানান, আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, আমরা কোনোভাবেই প্রশিক্ষণের বিরোধী নই। বরং একজন দক্ষ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষক গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে বর্তমান সরকারের গৃহীত ইতিবাচক উদ্যোগকে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কট তুলে তারা জানান, অসংখ্য বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাক্সিক্ষত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। তাই আমাদের দ্রুত পদায়ন করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষক সঙ্কট অনেকাংশে কমবে, অন্য দিকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান পাবে। অন্য দিকে যোগদান ও পদায়নে বিলম্ব হওয়ায় সুপারিশ প্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরেই অপেক্ষা আর কষ্টে আছেন। অনেকেই আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হওয়ায় সংসারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ চরম আর্থিক সঙ্কটে, কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এমনো সহকর্মী আছেন, যিনি বাবাকে হারিয়েছেন; অনেক পরিবার আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন তারা। এরপর তাদের প্রশিক্ষণসহ কিছু শর্তে যোগদান করানো হবে বলে জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।