পুরস্কার-সংবর্ধনায় এ বৈষম্য কেন
Printed Edition
- অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ী ফুটবলারদের রেডিয়েন্ট ফার্মা দিয়েছে ১ লাখ টাকা করে। কোচরা পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা করে।
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সাফ জয়ী ফুটবলারদের ৫০ হাজার টাকা করে দিলেও কোচদের কোনো টাকাই দেয়নি।
- অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ী ফুটবলাররা ক্রীড়া কার্ড পেলেও পাননি কোচরা।
- ক্রীড়া ভাতায় নেই কোনো কোচের নাম
- নারী ফুটবল জাতীয় দলের ২৬ সদস্যের মধ্যে ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন ১৮ জন।
- নারী সাফ জয়ীদের অন্তর্বর্তী কালীন সরকার সংবর্র্ধনা অনুষ্ঠানে ৩৩ সদস্যের স্কোয়াডে দাওয়াত পান ২৫ জন
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
আন্তর্জাতিক আসরে বড় সাফল্য পেলেই সংবর্ধনা জোটে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের মতো এতো সংবর্ধনা জোটেনি অন্য কোনো ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের। সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ দলের একের পর এক সাফল্য। ফলশ্রুতিতে জুটছে একের পর এক সংবর্র্ধনা। এ সংবর্ধনায় খেলোয়াড়রা পাচ্ছেন অর্থ পুরস্কার। অর্থ না পেলে অন্য উপহার। তবে এই পুরস্কার প্রদান ও সংবর্র্ধনা অনুষ্ঠানে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কখনও কোচরা । কখনও কিছু ফুটবলার। এতে বঞ্চিত কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটবলে বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য সম্প্রতি মালদ্বীপের মাঠ থেকে অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফের শিরোপা। ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে এ বয়সভিত্তির সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের। এ অর্জনে দলের কোচ ও খেলোয়াড় সবারই সমান অবদান। অথচ পুরস্কারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার কোচরা।
মিঠু রহমান, রোনান সুলিভান, ইসমাইল হোসেন মাহিনরা দেশে ফেরার পরপরই তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর প্রতিষ্ঠান রেডিয়েন্ট ফার্মার পক্ষ থেকে ফুটবলারদের এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়া হয়। তবে সেই পরিমাণ অর্থ জোটেনি কোচদের জন্য। কোচরা পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা করে। তবুও রেডিয়েন্ট ফার্মা কোচদের কিছু টাকা দিয়েছে। কিন্তু পরশু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সাফ জয়ীদের যে সংবর্ধনা দিয়েছে সেখানে কোচদের কোনো টাকাই দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র ফুটবলারদের ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। আর অনূর্ধ্ব-২০ দলের তিন সহকারী ও গোলরক্ষক কোচ আকবার হোসেন রিদন, আতিকুর রহমান মিশু ও বিপ্লব ভট্টাচার্য্যদের চা-নাস্তা খেয়েই ফিরে আসতে হয়। অথচ এ তিন কোচকে যদি ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হতো তাহলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যয় হতো দেড় লাখ টাকা। ফুটবলারদের এতো টাকা তারা দিলো; কিন্তু কোচদের জন্য দেড় লাখ টাকা জোগাড় হলো না!
অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ীদের এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এতে অবশ্য কোচ-খেলোয়াড় সবাই সমান অর্থ পেয়েছেন। তবে যুব ফুটবলাররা ক্রীড়া কার্ড পেলেও কোচদের দেয়া হয়নি সে ক্রীড়া কার্ড।
বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ক্রীড়াক্ষেত্রে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা মাসে এক লাখ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। তবে এ তালিকায় কোনো কোচ নেই। এ নিয়ে প্রচণ্ড ুব্ধ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় দলের কোচরা। অবশ্য যেখানে বিভিন্ন ফেডারেশনই কোচ দিয়ে জাতীয় দলকে মাসের পর মাস ট্রেনিং করায়, আর বিদেশে দল পাঠানোর সময় কোচের বদলে অন্য কর্মকর্তা দলের সাথে যান সেখানে অন্যরা কোচকে অবমূল্যায়নতো করবেই। এবারের বিচ এশিয়ান গেমসে কুস্তি ফেডারেশন এ কাজ করেছে। তারা দীপু চন্দ্রকে দিয়ে কোচিং করালেও চীনে তাকে পাঠানো হয়নি। পাঠানো হচ্ছে ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল মোবিনকে।
২০২৪ সালে নেপালের মাঠে সাফ শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে সেখানে সাফজয়ী প্রত্যেক সদস্যকে ডাকা হয়নি। ৩৩ সদস্যের বহরের মধ্যে ২৫ জনকে ডাকা হয়। অবশ্য ওই সংবর্ধনা থেকে এখন পর্যন্ত সাফজয়ীদের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। দাবিদাওয়া লিখিত দিয়েছিলেন ফুটবলাররা।
ক্রীড়া ভাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রেও নারী ফুটবল জাতীয় দলের আট সদস্য বঞ্চিত। অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়ান কাপ খেলে আসা বাংলাদেশ দলের ২৬ সদস্যের মধ্যে ১৮ জন ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। উন্নতি খাতুন, স্বর্ণা রানী মণ্ডলরা ভাতা পাচ্ছেন না।
এ বৈষম্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এক কোচ জানান, আমরা কোচ ছাড়া শুধুমাত্র খেলোয়াড়রা কি মাঠে খেলতে পারে? আমরাইতো তাদের গাইড করে সাফল্যের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখি। অথচ আমরাই বঞ্চিত। তাহলে আর কোচিং করিয়ে লাভ কী। ছেড়েই দেবো কোচিং।