মাহিরের খালামণি : রেজা কারিম

Printed Edition
agdum-2
মাহিরের খালামণি : রেজা কারিম

মাহিরের মনটা আজ খুব খারাপ। চুপ করে বারান্দায় বসে আছে। কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলছে না। আর কথা বলবেও বা কীভাবে? সবারইতো মন খারাপ। মাহির খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে এটি। তাই কাউকে কিছু জিজ্ঞেস না করে চুপটি করে বসে আছে।

বারান্দা থেকে বাড়ির সামনের রাস্তা ও রাস্তার ওপাশে বিশাল বিল দেখা যায়। যতদূর চোখ যায় খোলা জায়গা। বর্ষাকালে বিল পানিতে ভরপুর থাকে। তখন কেবল পানি আর পানি। পানির ঢেউ দেখতে মাহিরের খুব ভালো লাগে।

বিলের দিকে আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছে ছোট্ট মাহির। এমন সময় ছোট আপু আসে। ছোট আপুকে জড়িয়ে কেঁদে ফেলে সে। ছোট আপু তাকে আরো জড়িয়ে ধরে। হাত দিয়ে তার চোখ মুছে দেয়। ছোট আপু চেয়ে দেখে মাহিরের ছোট্ট চেহারায় কী অভূতপূর্ব এক মায়া।

গতকাল মাহিরের খালামণি ব্রেইন স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু ডাক্তার বলেছে হাসপাতালে নিতে নাকি খুব দেরি হয়ে গেছে। তাই রোগীর অবস্থা খুব ভালো নয়। সাথে সাথে নিতে পারলে স্ট্রোক করা রোগীর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া যায়। কিন্তু খালামণির ক্ষেত্রে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ব্রেইনে নাকি রক্তক্ষরণ হয়েছে। খুবই মারাত্মক অবস্থা। খালামণিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। একদিন হয়ে গেছে কিন্তু এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। ডাক্তাররা কিছুই বলতে পারছে না। মাহির ছোট হলেও বিষয়টি ধরতে পেরেছে। সে সবার মতোই নীরবে আল্লাহকে ডাকছে। খালামণির জন্য দোয়া করছে। আজ ফজরের নামাজের সময় আপুদের সাথে ঘুম থেকে উঠেছে। নামাজ আদায় করে খালামণির জন্য দীর্ঘসময় দোয়া করেছে।

মাহিরের অনেক কিছু মনে পড়ে। মনে পড়তেই সে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। খালামণি তাকে অনেক আদর করত। তাকে চকলেট কিনে দিত। খেলনা কিনে দিত। তার যত আবদার সে খালামণিকে নির্দ্বিধায় বলে দিত। আব্বু, আম্মুকেও তেমনটা বলতে সাহস করত না। খালামণির বাড়ি যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত। কিছু দিন পর পর খালামণির বাড়ি যাবে বলে আম্মুকে অস্থির করে তুলত। খালামণি তাকে তার পছন্দের খাবারগুলো রান্না করে খাওয়াত। নুডুলস, পাস্তা, বিভিন্নরকম বড়া তার পছন্দের তালিকায় প্রথম সারির। মাহিরের বারবার এসব মনে পড়ছে। মনে পড়তেই সে কান্না ধরে রাখতে পারে না। তখন সে কান্না লুকানোর জন্য সবার আড়ালে চলে যায়।

রাতে আম্মু আব্বুর সাথে সে হাসপাতালে গেল। হাসপাতাল দেখে মাহির অবাক হলো। ভিন্ন রকম একটা জায়গা। তার মনে অনেক প্রশ্ন এলো। কিন্তু আজ সে কোনো প্রশ্ন করল না। একটা গ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে সে দেখল খালামণি একটা বেডে শুয়ে আছে। দরজার উপরে লেখা ‘আইসিইউ।’ সাদা অ্যাপ্রোন পরিহিত এক মহিলা শুধু একজনকে ভেতরে যাওয়ার জন্য বললেন। অবশ্য মাহিরকেও নিতে বললেন। ভেতরে ঢোকার সময় হাসপাতালের জুতা পরতে হলো। মাহিরও বড়দের জুতা পরল। কারণ তার পায়ের মাপের কোনো জুতা তো সেখানে নেই।

আম্মু ও মাহির খালামণির সামনে এসে দাঁড়ায়। খালামণি ঘুমিয়ে আছে। মাহিরের ইচ্ছে হলো খালামণিকে ডাক দেয়ার। কিন্তু আজ সে ডাক দেয়নি। খালামণিও আজ তাকে ডাক দেয়নি। মাহিরের মনে হলো, খালামণি হয়তো কোনো কারণে তার ওপর অভিমান করেছে। হ