শ্রমিক দিবসের সমাবেশ

শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে লড়াই চলবে : জামায়াত আমির

Printed Edition
first-3
বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান এমপি : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের জোরালো সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি হলো রাষ্ট্র ও সমাজের সব কিছু সংশোধনের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা সংসদে গিয়েছি এ দেশের দুঃখী ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। সেখানে আমরা গালিগালাজ করতে বা ইতিহাসের মাস্টার হতে যাইনি। যতদিন সংসদে থাকব, আপনাদের হক আদায়ের জন্য লড়াই করে যাবো। পাশাপাশি শ্রমিক অঙ্গনের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলনও চলবে ইনশা আল্লাহ।

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অপরাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যুগ যুগ ধরে আন্দোলনের নামে মাঠ গরম করা হলেও একশ্রেণীর সুবিধাবাদী নেতার কারণে শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তারা আড়ালে মালিকপক্ষের সাথে সমঝোতা করে আন্দোলনকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রেণিসংগ্রাম বা ‘খতমের রাজনীতি’তে বিশ্বাস করি না। মালিক না থাকলে শ্রমিক কাজ পাবে কোথায়? আমরা বিশ্বাস করি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার রাজনীতিতে। মালিক শ্রমিকের ওপর ইনসাফ করলে শ্রমিকও তার পূর্ণ যোগ্যতা উজার করে মালিককে সহযোগিতা করবে, যা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত না হওয়ার প্রধান কারণ তথাকথিত একশ্রেণির নেতার উসকানি ও মালিকের সাথে গোপন আঁতাত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাবেক এমপি আ ন ম শামছুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প ও মালিক উভয়ই বাঁচবে। তাই শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ ছাড়াও সমাবেশে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমদ, মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া অফিস জানায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট বগুড়া জেলা শাখা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কে মিছিল-পূর্ব বিরাট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরী আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকার, সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান, মহানগরী সেক্রেটারি আব্দুল মালেক, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ, এনামুল হক বাবু বিশ^াস, জামায়াত নেতা আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুল হাকিম সরকার, রফিকুল আলম, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া প্রমুখ। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো হয়। শেষে একটি বিশাল গণমিছিল শহরের কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীতে জুলাই গণভোটের রায় অমান্য করার প্রতিবাদে ও সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিকেলে জেলা শহর মাইজদীতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে গণ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোয়াখালী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম শরিকদল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ নোয়াখালী জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা ইউসুফ মাদানী, লেবার পার্টি নোয়াখালী জেলা সভাপতি জহিরুল হক, এনসিপি নোয়াখালী জেলা সদস্যসচিব কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ নোয়াখালী জেলা দক্ষিণের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়াখালী শহর সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

কক্সবাজার অফিস জানায়, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দেশের মানুষের হাতে ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই সরকার জনগণের মতামতের সাথে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। কিন্তু সরকারের বোঝা উচিত দেশের মানুষ জুলাই সনদ ও গণভোটের পক্ষে রায় দেয়ার মাধ্যমে বিএনপিকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তিনি বলেন, গণভোটসহ জুলাই সনদের পক্ষে গৃহীত যাবতীয় অধ্যাদেশ সরকারকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তবে তার ফায়সালা রাজপথেই হবে এবং লড়াই ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। শনিবার বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভা চত্বরে ১১ দলের গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ জে এইচ এম ইউনুছ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর, জামায়াতের জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন, এনসিপির জেলা সদস্যসচিব ওমর ফারুক প্রমুখ।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৫টার দিকে কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদরাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ মোড়স্থ বিজয় স্তম্ভে গিয়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুল মতিন ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন ও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, জেলা ছাত্র শিবির সভাপতি মোশারফ হোসেন, জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব দিনার মিনহাজ প্রমুখ।