কলাপাড়া উপকূলে তরমুজের বাজার ধস পাইকার সঙ্কটে লোকসানের মুখে কৃষক

Printed Edition

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলে তরমুজ উৎপাদন নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়েছেন কৃষকরা। পাইকারের অভাব, বাজারদর পতন ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিক্রি না হওয়া তরমুজ মাঠ ও মোকামে পড়ে থাকায় সহস্রাধিক চাষি লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

এক সময় লাভজনক এ ফসল এখন অনেক কৃষকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদের আগে ও পরে কয়েক দফা বৃষ্টিতে ক্ষেত কাদায় পরিণত হওয়ায় পাকা তরমুজ নষ্ট হচ্ছে। ফাল্গুন মাসে স্বাভাবিক তাপমাত্রা না থাকায় উৎপাদন ও চাহিদা, উভয়ই ব্যাহত হয়েছে। রমজানের শুরুতে কিছু চাহিদা থাকলেও বর্তমানে বাজার প্রায় স্থবির।

লালুয়া চরচান্দুপাড়া গ্রামের কৃষক ফেরদৌস তালুকদার জানান, তিনি এ বছর ৬৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ২১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম ধসে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন। ঈদের আগে এক গাড়ি তরমুজ বিক্রি করে পান মাত্র এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যেখানে পরিবহন ও শ্রমিক খরচই প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আরো কয়েকটি গাড়ির তরমুজ এখনো বিক্রি হয়নি। তিনি অন্তত ১২ লাখ টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

একইভাবে নয়াকাটা গ্রামের কামাল হাং ২৪ বিঘা জমিতে চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলন ভালো হলেও দ্রুত বিক্রি না হওয়ায় তার বিনিয়োগ ফেরত পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, যারা আগাম ফলন পেয়ে রমজানের শুরুতেই বিক্রি করতে পেরেছেন, তারাই কিছুটা লাভবান হয়েছেন। অধিকাংশ চাষি এখন লোকসানের চাপে দিশেহারা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কলাপাড়ায় চার হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে প্রায় তিন হাজার কৃষক তরমুজ চাষ করেছেন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অন্তত অর্ধেক কৃষক লোকসানে পড়তে পারেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, আবাদি জমি বাড়লেও অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় ফলন কিছুটা কমেছে এবং বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।