সড়কমন্ত্রীর দাবি-বাসে নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে, যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে ‘গলা কাটছে’
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে তার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া কোথাও নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শুধু তাই নয়, গত ৭ দিনে পরিবহন মালিকরা তাদের খুশিতেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়াও নিচ্ছেন। মোট কথা যত কম ভাড়া রাখা যায়, তারা তাই রাখছেন। এর মধ্যে কোথাও কোনো গন্তব্যে সরকারি ভাড়া ৭০০ টাকা হলে সেখানে ১০০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের পরিবহন সেবা সরেজমিনে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তবে মন্ত্রীর এমন দাবির বিপরীতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য করা হচ্ছে- দাবি করে বলা হয়েছে, খোদ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের কাছ থেকেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। তাও এস আলম পরিবহন এমন ভাড়া নিচ্ছে। পরিবহন মালিকরা রীতিমতো ঈদকে উপলক্ষ করে ‘গলা কাটতে’ (বাড়তি ভাড়া) শুরু করেছে।
মহাখালী টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে টার্মিনালের বাইরে বাস পার্কিং সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, যে পরিমাণ যাত্রী এই টার্মিনাল ছেড়ে যাবে এবং যে পরিমাণ বাস এখানে আছে, তাতে সব বাসকে পার্কিংয়ের সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে এখানে কিছুটা বিড়ম্বনা আছে। এ সময় তিনি বাস ভাড়া সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে জোর দিয়েই বলেন, নির্ধারিত টাকার চেয়ে এক টাকাও বাড়তি ভাড়া নেয়ার সুযোগ নেই। এখানে মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম আছে। যেকোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আমরা একে নিরুৎসাহিত করছি।
আমরা গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়ে বাস সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করছি। এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে না বলে যে দাবি করছেন সড়কমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে নয় খোদ আমার কাছ থেকেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া ৬০০ টাকার একটি টিকিট ৮০০ টাকা নেয়া হয়েছে। তিনি এস আলম বাস কোম্পানীর টিকিটের ডিজিটাল টিকিটে নাম্বার ও যাত্রার তারিখ উল্লেখ করে পোস্ট দেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী টার্মিনাল ঘুরে যা বলছেন, বাস্তবে সেই দামে কোনো বাস কোম্পানি ঈদযাত্রার টিকিট বিক্রি করছে না।