নার্সারি তৈরিতে অনিয়ম
তজুমদ্দিনে বনের গাছ কেটে বনের বেড়া
Printed Edition
তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার তজুমদ্দিনে উপকূলীয় বন বিভাগের দৌলতখান রেঞ্জের অধীনে কেওড়ার বাগান সৃজনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নার্সারি বেডে চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে বেড়া নির্মাণ; প্রতিটি ধাপেই সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের চিত্র ফুটে উঠেছে শশীগঞ্জ স্লুইসঘাট এলাকায়। খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই নার্সারি রক্ষার নামে বনের শত শত গাছ কাটার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন শশীগঞ্জ স্লুইস ঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরের চরে গিয়ে দেখা যায়, চারা উৎপাদনের জন্য তৈরি করা বেডগুলোর আকার ও সংখ্যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি এক হেক্টর জমিতে পাঁচটি বেড থাকার কথা, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ৪ ফুট হওয়ার বিধান রয়েছে। প্রতিটি বেডে আড়াই থেকে তিন হাজার চারা থাকার কথা থাকলেও এখানে সেই নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি নার্সারিতে কোনো তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ডও ঝুলানো হয়নি, যা সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে নার্সারির বেষ্টনী বা বেড়া দেয়ার ক্ষেত্রে। নার্সারি সুরক্ষার জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার ও সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের যোগসাজশে পার্শ্ববর্তী বাসনভাঙা চর ও চর উড়িল থেকে শত শত কেওড়া গাছ কেটে এনে বেড়া দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বন তৈরির নামে পুরনো ম্যানগ্রোভ বনের গাছ উজাড় করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চারা রোপণের সময় তাদের ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার দাবি করেছেন, কৃষকদের একরপ্রতি ২৭ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে। বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, শশীগঞ্জ বিট অফিসের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও নামমাত্র কিছু বেড তৈরি করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে তড়িঘড়ি করে নির্ধারিত উচ্চতার (৮ ফুট) পরিবর্তে মাত্র ৩-৪ ফুটের চারা রোপণ করা হচ্ছে, যার টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিট কর্মকর্তা আবুল বাশার স্বীকার করেন যে, বেড়া দেয়ার জন্য কেওড়া গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। তবে অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে তিনি সরাসরি কথা বলার অজুহাতে এড়িয়ে যান।
সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এক অদ্ভুত দাবি তুলে বলেন, সরকার এখনো নার্সারি করতে কোনো বরাদ্দ দেয়নি। আমরা ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে কাজ করছি। বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা আজাদুল কবিরও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, ‘বন্ধু প্রকল্প’-এর মাধ্যমে এসব কাজ হওয়ার কথা থাকলেও বরাদ্দ না পাওয়ায় নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করা হচ্ছে।