হিমাগার না থাকায় বরগুনায় কমছে আলু চাষ
Printed Edition
গোলাম কিবরিয়া বরগুনা
দক্ষিণাঞ্চলে আলুর আবাদ তুলনামূলক কম হলেও বরগুনায় উৎপাদিত আলু স্থানীয় চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে থাকে। তবে হিমাগারের অভাব, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়মতো বীজ-সার না পাওয়ায় চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষ কমেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরগুনা জেলায় ৯৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কম। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ১২০, পাথরঘাটায় ৫৬২, বামনায় ৪২, বেতাগীতে ১৩২, আমতলীতে ১৯ এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জেলায় মোট আলু উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৫ টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত ৫৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এখনো প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বাকি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কীটনাশক, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
অন্য দিকে জেলায় উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ফলে উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন খেত ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু রোপণে। তবে সার সঙ্কট ও দেরিতে বীজ পাওয়ায় অনেক জমিতে আলুর গাছ ঠিকমতো ওঠেনি। কালমেঘা এলাকার কৃষক সুলতান ফকির বলেন, প্রতি বছর ধানের পাশাপাশি আলু চাষ করি। কিন্তু সরকারি সহায়তা খুব একটা পাই না। ওষুধ ও সার বেশি দামে কিনতে হয়।
এক নারী কৃষক হেনারা বেগম জানান, গত বছর আলু চাষ করে তিনি প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান করেন। এ বছর আবারো লাভের আশায় আবাদ করেছেন, তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বড় অংশে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। কৃষকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অতিরিক্ত দামে সার বা কীটনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।