একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন সর্বশেষ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারই অংশ। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসন চালু করেছিলেন কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি বলেন, সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। কারণ সরকার গঠন করার আগে এবং পরে চাঁদাবাজদের হাত আটকানো নাই। একটা চাঁদাবাজকে আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় তার ভাগ্য নিয়ে হুমড়ি খাবে। আর কিছু দল, দলকানা কিছু মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
গতকাল শনিবার খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক মুজিব এ কথা বলেন। খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি। অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, স. ম এনামুল হক, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, মুহা: আশরাফুল আলম প্রমুখ। অধ্যাপক মুজিব বলেন, যে দল নিজ দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তারা কেমন করে দেশে সুশাসন দিতে পারবে! একটা বড় বাজেট দেয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই, বাজেট দেয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। তবে শুধু এতটুকু বলব, গত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসর ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না।
তিনি আরো বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না। যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তাই গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।