নিহত মন্টু দাসের স্ত্রীকে ফোন

ন্যায়বিচার পেতে বিএনপিকে পাশে পাবেন : তারেক

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা
Printed Edition
1st-3
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন (ভার্চুয়ালি) তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

বরগুনা পৌর শহরে মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদি মন্টু চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিহতের স্ত্রীকে তিনি বলেন, বোন আমি তারেক বলছি, আপনাদের পাশে বিএনপি সবসময় আছে থাকবে, ন্যায়বিচার পেতে আপনাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ সময় তারেক রহমানের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ্ জামান মামুন মোল্লা নিহত মন্টু চন্দ্র দাসের পরিবারকে বিশেষ অনুদান প্রদান করেন।

গত রোববার রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি করইতলা এলাকায় মন্টু দাসের বাড়িতে মুঠোফোনে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। আপনারা যাতে ন্যায়বিচার পান সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টাটি করব। ভয় পাবেন না, দেশের মানুষ তথা বিএনপি আপনাদের পাশে আছে। আমি আমার নেতৃবৃন্দকে বলেছি, আমার নেতৃবৃন্দ আপনার ওখানে যাচ্ছেন। এছাড়াও আমান ওখানে আছেন। আমাদের দলের আরো সিনিয়র নেতাদের বলেছি আপনার ওখানে যাবে ও আপনাদের সাথে কথা বলবে। আপনার কী কী সহযোগিতা প্রয়োজন বলবেন। কতটুকু পারব জানি না তবে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব আপনার পাশে দাঁড়াতে। আপনি যাতে আইনের শাসন পান, ন্যায়বিচার পান সেজন্য আমার দলের যারা উকিল আছেন তাদের আমরা সেভাবেই নির্দেশনা দেবো।

হত্যার ঘটনার ৬ দিন পার হলেও কোনো আসামি ধরা পড়েনি, এমন কথার জবাবে তারেক রহমান বলেন, আপনি টেনশন করবেন না। আমরা দেখি, আপনার জন্য কি ব্যবস্থা করতে পারি। ইনশাআল্লাহ আমরা একটা ব্যবস্থা করব।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করলেও অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ দিকে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি সৃজীব চন্দ্র রায়ের বাবা শ্রীরাম রায়, সৃজীবের সহযোগী কালু ও রফিক। এ মামলার একমাত্র এজাহারভুক্ত আসামি সৃজীব রায়সহ গ্রেফতারকৃত সবাই আদালতের নির্দেশে বর্তমানে কারাগারে আছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ১১ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি করইতলা নামক এলাকার নিজ বাড়ির পেছন থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে বরগুনা সদর থানায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে বিচার চেয়ে দায়েরকৃত মামলার বাদি বাবাকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত মন্টুর বাড়িতে দেখা যায়, দেড় মাস বয়সী এক মেয়েকে নিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন মন্টুর স্ত্রী। আর ৪ ও ১০ বছর বয়সী দুই মেয়ের চোখে বাবাকে হারানোর শোক। নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মেয়েকে ধর্ষণের পর আমার স্বামী বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। পরে যে দিন মামলার তারিখ ছিল তার আগের রাতে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সন্দেহ হয় ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে এখন সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। কীভাবে আমাদের সংসার চলবে তা জানি না।

মাগুরায় আছিয়ার পরিবারকে ঈদ উপহার পাঠালেন তারেক রহমান

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরার শিশু আছিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আছিয়ার পরিবারের জন্য বিশেষ ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার সকালে তার পাঠানো উপহারটি পরিবারের হাতে তুলে দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলি। এ সময় তার সাথে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন, মাগুরা জেলা বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিল নতুন পোশাক, খাদ্য ও ঈদসামগ্রী। সম্প্রতি মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় শিশুটি। ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার চিকিৎসাসহ সব কিছুর দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহসম্পাদিকা নেওয়াজ হালিমা আরলি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন নিহত শিশুটির পরিবারের সাথে আছেন। সব সময় তিনি খোঁজখবর রাখছেন। শুধু আছিয়া নয়, সারা বাংলাদেশে নারী নির্যাতনে ভিক্টিম হবে তাদের জন্য আইনি সহায়তা পায় সেজন্য সেল করে দিয়েছেন।

এ ছাড়াও বিকেলে মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মাঠে মাগুরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আছিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।