সাহরি এক বরকতময় সুন্নত : মুহিবুল হাসান রাফি
Printed Edition
রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের এক অনন্য মাস। এ সময়ের প্রতিটি আমল, যত ছোটই হোক- বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্য বহন করে। অনেকেই সাহরিকে কেবল রোজার আগে খাবার গ্রহণের একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে করেন; কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটি বরকতময় এক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা: নিজেই সাহরির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এতে নিহিত বরকতের কথা সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তাই সাহরির প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য জরুরি। রমজান মাস শুধু রোজা রাখার নাম নয়; বরং এটি একটি পরিপূর্ণ ইবাদতের জীবনধারা। এই মাসে প্রতিটি ছোট আমলও বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াবের অধিকারী হয়। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল হলো সাহরি খাওয়া। অনেক সময় মানুষ এটিকে শুধু রোজার প্রস্তুতি হিসেবে মনে করলেও, রাসূলুল্লাহ সা: সাহরিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এতে বরকতের সুসংবাদ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, নবী সা: বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি-১৯২৩) এই হাদিসে সাহরির গুরুত্ব অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাহরির বরকত বহু দিক থেকে প্রকাশ পায়। প্রথমত, এটি রোজাদারের জন্য শারীরিক শক্তি সহনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা সারা দিন ইবাদত ও কর্মে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, সাহরি একটি সুন্নত আমল; তাই এটি পালন করলে ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হয়। তৃতীয়ত, সাহরির সময়টি দোয়া, ইস্তিগফার ও তাহাজ্জুদের জন্য অত্যন্ত বরকতময়, কারণ এটি শেষ রাতের সময়, যখন আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত নাজিল হয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- সাহরি মুসলিমদের রোজাকে আহলে কিতাবদের রোজা থেকে পৃথক করে। রাসূলুল্লাহ সা: সাহরি বিলম্বে খেতে উৎসাহ দিয়েছেন, যাতে এই সময়ের বরকত ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ থেকে সর্বোচ্চ উপকার লাভ করা যায়। সুতরাং সাহরি শুধু খাদ্য গ্রহণ নয়; এটি ইবাদত, সুন্নতের অনুসরণ এবং রহমত ও বরকত লাভের এক বিশেষ সুযোগ।
যে ব্যক্তি এই আমলকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে, তার রোজা হয় আরো শক্তিশালী, অর্থবহ এবং আল্লøাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহরি শুধু পেট ভরানোর প্রস্তুতি এটি সুন্নতের অনুসরণ নয়; ইবাদতের সহায়ক এবং বরকত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। যে ব্যক্তি সচেতনভাবে সাহরি গ্রহণ করে এবং এই সময়টিকে দোয়া-ইস্তিগফারে কাজে লাগায়, তার রোজা হয় অধিক অর্থবহ ও ফলপ্রসূ। অতএব, রমজানের পূর্ণ আত্মিক স্বাদ পেতে সাহরিকে অবহেলা না করে বরং গুরুত্বের সাথে পালন করা উচিত- কারণ এই ছোট আমলই হতে পারে আল্লাহর অশেষ রহমত লাভের একটি বড় মাধ্যম।
লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ