শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রতিবেদন জমা বাধ্যতামূলক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ব্যাংকগুলোর শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা আবারও জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, লভ্যাংশ ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণার নীতিমালা বিষয়ে গত ১৩ মার্চ জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ওই সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে লভ্যাংশ বিতরণের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সাথে ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত রিটার্নের বিষয়টিও এতে বিবেচনায় নেয়া হয়।
সার্কুলারের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়, কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করলে সাত দিনের মধ্যে একটি নির্ধারিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানাতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী প্রস্তুত করা এ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে। তবে ব্যাংকিং তদারকি ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি তদারকি কাঠামো পুনর্গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে রিস্ক বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) পদ্ধতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে গত ২৪ ডিসেম্বর জারি করা এসপিসিডি সার্কুলার-৩ এর মাধ্যমে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকতে হবে। এর পর তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এবং সুপারভাইজরি ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো জানিয়েছে, ১৩ মার্চ ২০২৫ তারিখে জারি করা ডিওএস সার্কুলার নং-০১ এর অন্যান্য নির্দেশনা আগের মতোই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোকে লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আর্থিক সূচক, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং তদারকি আরো কার্যকর হবে। একই সাথে ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।