মোহামেডানকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
- ঢাকা আবাহনী ২-১ মোহামেডান
- ইয়ংম্যান্স ০-২ ব্রাদার্স
- পিডব্লিউডি ২-০ রহমতগঞ্জ
মোহামেডান সমর্থকদের ক্ষোভটা একটু বেশিই থাকতে পারে স্ট্রাইকার স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের উপর। শেষ দিকে কেন তিনি এভাবে গোলগুলো মিস করলেন। তার দুটি হেড অল্পের জন্য গোলে যায়নি। দুটিরই গন্তব্য পোস্ট ঘেঁষে বাইরে। রহমতগঞ্জ থেকে আসা এই ফুটবলার নিজেও হতাশায় পুড়েছেন গোল করতে না পেরে। ফলে হারে আরো পিছিয়ে গেল মোহামেডান। কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের ২-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ঢাকা আবাহনী। আর সাদাকালো শিবির নেমে গেল সাত নাম্বারে। ১২ খেলায় আবাহনীর পয়েন্ট ২২। মোহামেডান ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে সাত নাম্বারে। কাল অপর ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন জিতে যাওয়ায় আলফাজ আহমেদের দল সাতে নেমে গেছে। আর ব্রাদার্স ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চলে এসেছে ছয় নাম্বারে। ব্রাদার্স কাল ২-০ গোলে হারিয়েছে ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুলকে। আর পিডব্লিউডির ২-০তে জয় রহমতগঞ্জের বিপক্ষে। ১১ খেলায় ২৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে বসুন্ধরা কিংস।
গোল পাল্টা-গোল। শেষ মিনিট পর্যন্ত উত্তেজনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান ও আবাহনীর ফুটবল ম্যাচে যা যা হওয়া দরকার সবই ছিল কুমিল্লার এই ম্যাচে। উল্লেখ্য দুই দলেরই হোম ভেন্যু কুমিল্লায় হওয়ায় এই জেলা শহরেই হচ্ছে ঢাকা ডার্বি। এতে টানা ৬ ম্যাচ পর মোহামেডানকে হারানোর তৃপ্তির সাথে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানেও উঠে গেছে আকাশি-নীলরা। ম্যাচে আবাহনীর লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপুর্ণ এই ম্যাচটি জিতে শিরোপা লড়াইয়ে ভালোভাবে ফিরে আসা। আর মোহামেডান চাইছিল আবাহনীকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থানটা একটু ওপরে তোলা।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান এবার মাঠে ছন্নছাড়া। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাদই দিয়েছেন দলটির সমর্থকরা। আবাহনীকে হারাতে পারলে একটা সান্তনা হয়তো থাকতো। প্রথম পর্বে যে কাজটি করতে পেরেছিল মোহামেডান। দ্বিতীয় পর্বে লিড নিয়েও পারলো না চির প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে। এতে তাদের অবস্থান রেলিগেশন জোনের আশপাশে।
অথচ এই ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু হয়েছিল মোহামেডানের। তৃতীয় মিনিটেই লিড। সেই গোলটি আবার অলিম্পিক গোলে। মানে সরাসরি কর্নার থেকে শট জালে। দলের মধ্যমাঠের প্রাণভোমরা উজবেকিস্তানের মোজাফফর চোখ ধাঁধানো অলিম্পিক গোল উল্লাস ছড়িয়েছিলেন মোহামেডান গ্যালারিতে। ম্যাচের ৯৫ মিনিটে মোহামেডানের ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু লাল কার্ড পান।
১৭ মিনিটে মিরাজুল ইসলামের গোলে সমতায় ফেরে আবাহনী। মিরাজুল এই গোল করে বুঝিয়েছেন কেন তাকে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে খেলিয়েছিলেন কোচ হাভিয়ার কাবরেরা। তারপর তীব্র লড়াই দুই দলের। মোহামেডানের এক সময়ের ত্রাণকর্তা সোলেমান দিয়াবাতেরও যে তার সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে কারিশমা দেখানো বাকি ছিল! সেটি তিনি দেখিয়েছেন ৬৬ মিনিটে।
নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবগ বাম দিক দিয়ে মোহামেডান বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করলে বল খুঁজে পায় দিয়াবাতেকে। তিনি বল থামিয়ে শরীর ঘুরিয়ে নিঁখুত শটে সেটা পাঠিয়ে দেন তার পুরনো ক্লাব মোহামেডানের জালে। দুই ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে মালির এই স্ট্রাইকার যে শট নেন তাতে কিছুই করার ছিল না মোহামেডান কিপার সাকিব আল হাসানের। এ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ওগবগ। দলের দুটি গোলেই আছে তার কারিশমার ছোঁয়া। প্রথমে মিরাজুলকে দিয়ে গোল করিয়ে সমতা এনেছেন। পরে দিয়াবাতেকে দিয়ে গোল করিয়ে আবাহনীকে এনে দিয়েছেন মোহামেডানের বিপক্ষে ভুলতে যাওয়া জয়টি।
ম্যাচে অনেক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খেলা বন্ধ থেকেছে। রেফারিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত খেলাতে হয়েছে ১১ মিনিটের মতো। মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে যা থাকার সবই ছিল পরের সময়টুকুতে। শুধু গোল আর দেখা যায়নি। নিজ দলের গোলরক্ষক মিতুল মারমার সাথে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে আবাহনীর ডিফেন্ডার মুরাদকে।
অন্য ম্যাচে ১০ জন নিয়েও পিডব্লিউডি ২-০ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জকে। ৭ মিনিটে মারাত তারেচেক পেনাল্টি থেকে গোল করেন। এর পর ৮৮ মিনেটে রাজন হালদারের আত্মঘাতী গোলে স্কোর দ্বিগুণ। লালকার্ড পান সানগে ইউজের।
আরেক ম্যাচে শায়েকের জোড়া গোলে ব্রাদার্স ২-০তে হারায় ইয়ংম্যান্সকে। ৫৪ ও ৮৩ মিনিটে এই পাকিস্তানির জোড়া গোল।