দুবাইয়ে টার্গেটে আমেরিকান সৈন্য, ৫ হাজার বাংলাদেশী ফেরার অপেক্ষায়
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ইরানের সাথে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে চলছে। দিন যত যাচ্ছে যুদ্ধের তীব্রতা ততই বাড়ছে। এরই মধ্যে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য অবস্থান করছে সেখানেই তারা হামলা চালাবে। তাই ওই সব এলাকা থেকে বেসামরিক লোকদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একদিন আগে এমন ঘোষণা দেয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ সাতটি প্রদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা নাগরিকদের মধ্য নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এ দিকে যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ও শারজাহ থেকে নানা পেশার প্রবাসী বাংলাদেশী দেশে ফিরতে বিমানের টিকিট কাটছেন। তবে এসব রুটে যাত্রী থেকে ফ্লাইটের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশী দেশে ফিরতে পারছেন না। বিমান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মুহূর্তে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো বাংলাদেশী দুবাই শারজাহসহ অন্য স্থানে আটকা পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় অবস্থানকারী একজন বাংলাদেশী নাগরিক দুবাইয়ের চালচিত্র জানিয়ে বলেন, আজ এখন পর্যন্ত কোনো সাইরেনের আওয়াজ আমি পাই নাই। তবুও আমরা একধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ইরান দুবাইয়ে মার্কিন ঘাঁটি ও বেসামরিক এলাকায় লুকিয়ে থাকা এলাকায় টার্গেট করে আবার হামলা করবে বলে শোনা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরাও শুনেছি, গত রোববার ইরান থেকে ঘোষণা এসেছে। তারা এও বলেছে, আমাদের টার্গেট কোনো সিভিলিয়ান না। প্রধান টার্গেট হবে আমেরিকান সৈন্যরাই। ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে সৈন্যরা সাধারণ সিভিলিয়ানদের মধ্যে মিশে আছে। তাই আমেরিকান সৈন্যরা যেসব একালায় থাকবে, সেসব এলাকায় হামলা চালাবে। সেসব এলাকা থেকে সিভিলিয়ানদের সরে যেতে বলছে।
এদিকে ইরান ইসরাইল ছাড়াও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, ইরাক, লেবাননসহ কয়েকটি দেশের আমেরিকান ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিনিয়ত মিসাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন এবং অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কায় অনেক বাংলাদেশী ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না। অনেকেই ছুটা কাজ করত। তাদের অনেকেই বেকার হয়েছে। অনেকে হামলার পর কাজ করলেও ঠিকমতো বেতন পাচ্ছে না। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যে তারা কি করবেন তার হিসাব মেলাতে পারছেন না। আতঙ্কিত প্রবাসীদের নিয়ে দেশে থাকা তাদের পরিবার-পরিজন রয়েছে চরম উদ্বেগের মধ্যে। এর মধ্যে অনেকেই দেশে ফিরতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিট কাটতে শুরু করেন। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি শুরু না হওয়ায়।
গতকাল রোববার (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা) দুবাইয়ের দেইরা এলাকায় থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে শুধু বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর আমাদের এখানে ভয় নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। যদিও আমাদের এখানে হামলার তেমন আশঙ্কা দেখছি না জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বিমানের ফ্লাইট ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন একটি করে চলাচল করবে। কিন্তু দুবাই, শারজাহ এবং আবুধাবীতে দেশে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন প্রায় পাঁচ হাজারের মতো যাত্রী। তাদের নিয়ে অনেক পেরেশানির মধ্যে আমাদের সময় কাটাতে হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি, ইরান সরকার একদিন আগে ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকান সৈন্য যেখানে থাকবে সেখানেই তারা টার্গেট করে হামলা চালাবে। সিভিলিয়ানদের ওই সব এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। এখন সিভিলিয়ানরা সরে যাবে কোথায়? সেটাই তো প্রশ্ন?
উল্লেখ্য, ইরান থেকে সৌদি, বাহরাইন, দুবাইয়ে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ঘটনায় চার বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ ওইসব হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে নিহত সিলেটের বাসিন্দা এক বাংলাদেশীর লাশ দেশে পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্লাইট চলাচল শুরু হলে তাদের লাশ দেশে পাঠানো হবে।
সর্বশেষ গত ৮ মার্চ বিকাল ৫টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে শত কিলোমিটার দক্ষিণে আলখারজ শহরের উপকণ্ঠে আলতোয়েফ অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স কোম্পানির শ্রমিক ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই দু’জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় আরো ১১ জন কর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে আলখারজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।