লেবু ফুলের ঘ্রাণ : সরকার শাহাদত হোসেন

Printed Edition
pas-4
লেবু ফুলের ঘ্রাণ : সরকার শাহাদত হোসেন

ফাল্গুনের মৃদু হাওয়া আর রোদের নরম ছোঁয়ায় বসন্তের আগমনী বার্তায় সেজে উঠেছে গাইবান্ধা জেলা। এ সময় লেবু গাছে মন মাতানো সাদা ফুলের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ফুলের পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

লেবু সারা বছরই কমবেশি পাওয়া গেলেও বসন্তকালই লেবু গাছের ফুল আসার মোক্ষম সময়। এ সময় গাছে সবচেয়ে বেশি কুঁড়ি ফোটে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে মিষ্টি সুবাস। উঠান, বাড়ির আঙিনা, ছাদ বাগান কিংবা পুকুরপাড়, যেদিকেই চোখ যায়, সাদা ফুলে ভরা লেবু গাছ যেন বসন্তকে আরো আপন করে তোলে।

গাইবান্ধা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লেবুর চাষ তুলনামূলক কম হলেও প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানেই এক-দু’টি লেবু গাছ দেখা যায়। অনেকেই সচেতন হয়ে ছাদ বাগানেও লেবু চাষ করছেন। কারণ লেবু শুধু একটি ফল নয়, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর, বিশেষ করে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ। জ্বর বা সর্দি হলে অনেকে লেবুর শরবত পান করেন, যা শরীরকে সতেজ করে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের পুরাতন সরকার পাড়া গ্রামের ‘লেবু ভাই’-এর সাথে গত শুক্রবার লালচামারের বাজারে কথা হয়।

তিনি জানান, ’৯০-এর দশকে প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠানে, গোয়ালঘরের পেছনে কিংবা বাগানের পাশে লেবু গাছ লাগানোর প্রচলন ছিল। এখন মানুষ আগের মতো লেবু গাছ লাগায় না। অনেকে লেবু চাষকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। তবে এখনো সচেতন অনেকেই ছাদ বাগানে লেবু চাষ করছেন।’

প্রকৃতির এই রূপ যেন মনে করিয়ে দেয় বসন্ত এসেছে। লেবু ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভ আর সাদা কুঁড়ির হাসি গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বসন্ত মানেই নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রাণের স্পন্দন, আর সেই স্পন্দনের এক মিষ্টি সাক্ষী হয়ে ফুটে আছে লেবু ফুল।