গতি আর ট্যাকটিক্যালের লড়াই জাপান-সুইডেনের

Printed Edition
khela-3
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে প্র্যাকটিসে ব্যস্ত জাপান ও সুইডেনের ফুটবলাররা : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের এবারের আসরে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে জাপান। প্রথম ম্যাচে তারা নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে নিয়েছে সূর্যোদ্বয়ের দেশটি। দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ছয়বার বল পাঠানোর বিপরীতে মাত্র দুইবার নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে ব্লু সামুরায়রা। এতেই প্রমাণিত হয় আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগ কতটা ভারসাম্যপূর্ণ জাপানের। সুইডেনের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের আক্রমণাত্মক শক্তির জানান দিয়েছিল ইউরোপের দেশটি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে পরাজয়টা বড় ধাক্কা ছিল সুইডিশদের। তবুও দুই ম্যাচে ছয় গোল করা দলটির আক্রমণভাগ এখনো ভয়ঙ্কর।

বিশ্বকাপ ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় আজ রাত পেরিয়ে ভোর ৫টায় মাঠের লড়াইয়ে নামবে সুইডেন ও জাপান। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের ফলই নকআউট পর্বে সরাসরি কারা যাবে, সেটি নির্ধারণ হবে এই ম্যাচে। গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল পার্থক্যে এগিয়ে টোটাল ফুটবলের দেশটি। আর দ্বিতীয় জাপান। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে সুইডেন। জাপান ও সুইডেনের মধ্যকার এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ট্যাকটিক্যাল ফুটবল এবং গতির দারুণ এক লড়াই। ফলে এই ম্যাচ কার্যত নকআউটের আগের এক নকআউট লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সংগঠিত ফুটবলই সবচেয়ে বড় শক্তি জাপানের। দ্রুত পাস, উচ্চ গতির প্রেসিং এবং বল ছাড়া খেলোয়াড়দের মুভমেন্ট প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার এই পরাশক্তি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বড় দলগুলোর বিপক্ষেও ধারাবাহিক ভালো ফল করেছে। তাদের তরুণ ও গতিময় দল যেকোনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম। বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে জায়গা নিশ্চিত করার পর থেকেই জাপানকে অনেক বিশ্লেষক সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখছেন।

হাজিমে মোরিয়াসুর দল বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে তারা চমৎকার ভারসাম্য প্রদর্শন করেছে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া জাপানের স্কোয়াডটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তাদের আক্রমণভাগে তাকুমি মিনামিনো, কওরু মিতোমা কিংবা রিতসু দোয়ানদের মতো দ্রুতগতির উইঙ্গাররা রয়েছেন। যারা যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। দলটির মূল শক্তি হলো তাদের সুশৃঙ্খল জমাট রক্ষণ ও দ্রুত প্রতি-আক্রমণ (কাউন্টার-অ্যাটাক)।

সুইডেনের প্রধান ভরসা তাদের শক্তিশালী ফরোয়ার্ড লাইন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিয়মিত আলোচনায় থাকা স্ট্রাইকারদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। দলটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং সেট-পিস থেকে গোল করার ক্ষমতাও তাদের বড় অস্ত্র। তবে রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখা গেছে, বিশেষ করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক সামলানোর ক্ষেত্রে।

তবে দলটিতে বিশ্বমানের ফিনিশিংয়ের কোনো অভাব নেই। তাদের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন আলেক্সান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গায়কেরেসের মতো স্ট্রাইকাররা। তবে দলটি তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ চিন্তায়। আগের ম্যাচগুলোতে সুইডেন প্রচুর গোল করার পাশাপাশি গোল হজমও করেছে। এই ম্যাচে তাদের রক্ষণভাগকে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে জাপানের ক্ষিপ্র গতি সামলাতে হবে। আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা এবং ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার দিক থেকে জাপান কিছুটা এগিয়ে। ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জাপানের জমাট রক্ষণ ও ক্ষিপ্র গতির ফরোয়ার্ডরা ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন।

জাপান বর্তমানে অপরাজিত অবস্থায় ম্যাচটিতে নামছে। ড্র করলেও তাদের নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল থাকবে। কিন্তু সুইডেনের সামনে জয়ই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তবে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে সুইডিশরা। মোট পাঁচবার মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই ম্যাচে জয় সুইডেনের আর একটিতে জাপান। বাকি দু’টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।