পেট্রলপাম্পে তেল সরবরাহ বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

Printed Edition
3rd-2
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং সারা দেশের পেট্রলপাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার ঢাকার স্কাই সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি ফিলিংস্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাসদস্য মোতায়েন; মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে কোনো বিভাজন না করা; বড়-ছোট সব ফিলিংস্টেশনে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা; বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা; এজেন্সি প্যাক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা; মনিটরিংয়ের নামে অযথা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ করা; ফিলিংস্টেশন বা ভাসমান তেল ভেসেলে অবৈধ মজুদ ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তেলের ডিপোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া।

লিখিত বক্তব্যে নাজমুল হক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পেট্রলপাম্পগুলোতে এক ধরনের ভীতিকর ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের চরম চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সরকার তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একদিকে সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে, আবার অন্যদিকে রেশনিংয়ের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে- এই দ্বৈত বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে ‘তেল ফুরিয়ে যাবে’ এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পেট্রলপাম্প মালিকরা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পেট্রলপাম্পে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেল নেই’ এমন প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক পেট্রলপাম্পে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে সেখানে পরিস্থিতি আরো সঙ্কটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু এলাকায় তেলের দাবিতে পেট্রলপাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।

সংগঠনের দাবি, সরকার ২০২৫ সালের বিক্রির তুলনায় ১০ শতাংশ কম তেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ২০২৬ সালে যানবাহনের সংখ্যা ও জ্বালানির ব্যবহার প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ কমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসছে, যা ছোট ও মাঝারি পাম্পগুলোর জন্য বড় সঙ্কট তৈরি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, শহরের বহুতল ভবনগুলোর জেনারেটরের জন্য তেলের আলাদা কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে তারা পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।

অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা সেচপাম্প চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না, যা কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়- ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কোনো ভিত্তিহীন খবর বিশ্বাস করবেন না। পাম্পে দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের সাথে বাগি¦তণ্ডায় না জড়িয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করুন এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।’