তেল-গ্যাসের জন্য ফের রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে ভারত
Printed Edition
রয়টার্স
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাবে পুরনো মিত্র রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আবারো জোরদার করতে যাচ্ছে ভারত। দুই দেশ আবার সরাসরি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্য শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে রাশিয়ার জ্বালানি উপমন্ত্রী ও ভারতের জ্বালানি মন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বাড়িয়ে মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশে নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথ দিয়েই ভারতের প্রায় অর্ধেক তেল ও গ্যাস আমদানি হয়। ফলে দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি আবার রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে এবং এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টাও করছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান সঙ্কটে সেই সম্পর্ক আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন বাস্তববাদী কৌশল নিচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক চাপের চেয়ে নিজেদের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাব মোকাবেলায় জ্বালানি শুল্কে ছাড়
তা ছাড়া আলজাজিরা, বিজনেস টুডে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি (অভ্যন্তরীণ) শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভোক্তা ও তেল কোম্পানিগুলোকে অস্থির অপরিশোধিত তেলের দামের চাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর পূর্ণ প্রভাব নির্ভর করবে ভারতে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির ওপর। গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্তে পেট্রোল ও ডিজেল- উভয়ের ওপর লিটারপ্রতি ১০ রুপি করে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে পেট্রলে আবগারি শুল্ক কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ রুপি প্রতি লিটার, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে কার্যত তা শূন্যে নেমে এসেছে। মূলত বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ওপর যে ব্যয়চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।