ভিয়েতনামকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটবলে গত পরশু ফিফা প্রীতিম্যাচে ভিয়েতনামের কাছে বাংলাদেশের বাজে হার। হাভিয়ার কাবরেরা বাহিনীকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আসিয়ান অঞ্চলের দেশটি। তাদের কাছে ২০০১ সালে সৌদি আরবের মাঠেও বাংলাদেশ ০-৪ গোলে হেরেছিল। হ্যানয়ের মাঠের সেই হারের প্রতিশোধই গতকাল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নিয়েছে বাংলাদেশ আরচ্যারি দল। এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্ট স্টেজ-১-এ বাংলাদেশ দাপটের সাথে খেলেই ফাইনালে হারিয়েছে ভিয়েতনামকে। হিমু বাছার, নেওয়াজ আহমেদ রাকিব এবং ঐশ্বর্য্য রহমানরা ২৩১-২২৫ পয়েন্টে পরাজিত করে ভিয়েতনামকে। ফলে কম্পাউন্ডের দলগত ইভেন্টে ইহিতাস গড়ে প্রথম স্বর্ণের দেখা বাংলাদেশের। এর আগে বাংলাদেশ গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অল্পের জন্য স্বর্ণ জিততে পারেনি। মিক্সড দলগততে বাংলাদেশ ফাইনালে হেরেছিল। এই স্বর্ণ জয়ের ফলে হিমু বাছার, নেওয়াজ আহমেদ রাকিব এবং ঐশ্বর্য্য রহমানরা এক হাজার ডলার পুরস্কার পাচ্ছেন। বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলো জানান, আমরা এই ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলাম। এখন সেই প্রতিশ্রুত অর্থ তারা পাবেন।
বাংলাদেশের আরচ্যারিতে অবহেলিত ছিল এই কম্পাউন্ড ইভেন্ট। রিকার্ভ নিয়েই মাতামামি। শুধু বাংলাদেশেই নয়। অলিম্পিক গেমসেও এই ইভেন্ট ছিল না। অবশ্য ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসে কম্পাউন্ড ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও শুধু মিক্সড ইভেন্ট। সেখানে বাংলাদেশ কোয়ালিফাই করতে পারবে কি না- তা সময়ই বলে দেবে। তবে এখন কম্পাউন্ড দলগততে এই যে অর্জন তা এই ইভেন্টে নুতন আশা দেখাচ্ছে।
তানভীর আহমেদ আলো তথ্য দেন, ‘আমরা এই কম্পাউন্ড ইভেন্টের ট্রেনিংয়ে কিছু পরিবর্তন এনেছি। অনুশীলনে তাদের ভালো পারফর্মম্যান্সের জন্য বোনাস দেয়া হতো। এতে খেলোয়াড়রা উৎসাহ পাচ্ছেন।’ জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডেরিখের অধীনেই চলছে রিকার্ভ ও কম্পাউন্ডের অনুশীলন। এখন কম্পাউন্ডেও বিদেশী কোচ দরকার। আলো জানালেন, আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি। সেখানে আরচ্যারির একটি সভা আছে। তখন কম্পাউন্ডের জন্য বিদেশী কোচ বিষয়ে আলোচনা করব। আমি আগেই তা বলে রেখেছি। আমরা কম্পাউন্ডেও আরো ভালো করতে চাই।
গত বছরও রিকার্ভে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে রিকার্ভ এককে স্বর্ণ জিতেছিলেন আবদুর রহমান আলিফ। এবার তিনি শেষ ১৬ থেকেই বিদায় নেন। অথচ টানা দুই অলিম্পিকে বাংলাদেশ এই রিকার্ভ ইভেন্টেই সরাসরি খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিল। প্রথমে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে রোমান সানা সুজন এবং পরে ২০২৪-এ প্যারিসে সাগর ইসলাম। রোমান সানা তার স্ত্রী দিয়া সিদ্দিকীকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্রে স্থায়ী হয়েছেন। সাগর ইসলাম এবার থাইল্যান্ডগামী দলেই ছিলেন না। তবে এর পরও রিকার্ভ দল নিয়ে হতাশ নন ফেডারেশন সেক্রেটারি। তার মতে, রিকার্ভ দল কিন্তু খারাপ নয়। এক ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্টের জন্য না হারলে একটি পদক আসত। অন্যদের কপাল খারাপ। আসলে নানা বিষয় জড়িত থাকে ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে। ভাগ্যও একটি বড় বিষয়।’ উল্লেখ্য, ১০ আরচ্যার নিয়ে থাইল্যান্ড গিয়েছিল বাংলাদেশ দল।
কাল ফাইনালে বাংলাদেশ প্রথম সেটে ৫৭-৫৫ পয়েন্টে হারায় ভিয়েতনামকে। পরের সেটে ৫৮-৫৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকে। তৃতীয় সেটে বাংলাদেশ ৫৭-৫৮ পয়েন্টে হেরে গেলেও চতুর্থ সেটে আর পাত্তা দেয়নি ভিয়েতনামের আরচ্যারদের। ৫৯-৫৬ পয়েন্টে হারিয়ে দেয়। ফলে ২৩১-২২৫ পয়েন্টে ঐতিহাসিক জয়।
পরশু রিকার্ভ মিশ্র দ্বৈতে রাকিব রায় ও সোনালী রায় ০-৬ সেটে ১/৮ এর খেলায় কাজাখস্তানের কাছে হেরে যায়। আর কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ টাইব্রেকারে সিঙ্গাপুরের কাছে ২০-১৮ পয়েন্টে হার মানে। প্রথমে দুই দলের স্কোর ছিল ১৫৪-১৫৪।
পুরুষ কম্পাউন্ডে এই সফলতা এলেও দুই দিন আগে রিকার্ভ দলগততে বাংলাদেশ (রাকিব মিয়া, আবদুর রহমান আলিফ ও রামকৃষ্ণ সাহা) কোয়ার্টার ফাইনালে ০-৬ সেটে হেরে যায় কাজাখস্তানে কাছে। মহিলা কম্পাউন্ড দলগততে বাংলাদেশ ২২৯-২৩০ পয়েন্টে থাইল্যান্ডের নিকট হার মানে। কম্পাউন্ড মহিলা এককে কুলসুম আক্তার মনি কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যান। রিকার্ভ এককে রাকিব, রামকৃষ্ণ ও আলিফ ১/৮ এর খেলায় বিদায় নেন। কম্পাউন্ড এককে রাকিব ১/৮ এর খেলায় মালয়েশিয়ার প্রতিযোগীর কাছে এবং হিমু বাছার কোয়ার্টারে ভারতের প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হন।