উত্তরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব : লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০-১৫ মিনিটের আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জনপদ। গত শুক্রবার রাত ও গতকাল শনিবার ভোরে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই দুর্যোগে হাজারো ঘরবাড়ির টিনের চালা ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। সেই সাথে ভুট্টা, তামাক, বোরো ধানসহ মাঠের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন অনেক দুস্থ পরিবার। হঠাৎ এই দুর্যোগে উত্তরের এই চার জেলায় কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লালমনিরহাট সদরসহ আদিতমারী, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও পাটগ্রাম উপজেলার ওপর দিয়ে তীব্র শিলাবৃষ্টি বয়ে যায়। মাত্র ১০ মিনিটের এই তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। কালীগঞ্জের রহিমা বেগম বলেন, বড় বড় পাথর (শিলা) পড়ার শব্দে ভয়ে শিশুদের নিয়ে সারারাত জেগে কাটিয়েছি। টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে, নতুন করে ঘর তোলার টাকা কই পাবো! আদিতমারীর কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, তার চার দোন জমির ভুট্টা ও শুকোতে দেয়া তামাক শিলাবৃষ্টিতে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান জানান, ভোটমারী এলাকায় প্রায় ১০০টি টিনের ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসক রাকিব হায়দার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে দ্রুত ত্রাণসহায়তা দেয়া হবে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকা উপজেলায় শনিবার মধ্যরাতে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, এমন তীব্রতা তারা আগে কখনো দেখেননি। প্রায় ১৫ মিনিটের স্থায়ী এই দুর্যোগে ভুট্টা, মরিচ ও আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ডোমারের হলহলিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সালামের দুই বিঘা জমির ভুট্টা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এ ছাড়া শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় বহু বসতবাড়ির পাশাপাশি কয়েকটি পূজা মণ্ডপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, মাঠ পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানান, দেবীগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে দু’টি পরিবারের বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পরিবার দু’টি এখন চরম দুর্ভোগে পড়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় দেবীগঞ্জে দিনমজুর আবদুর রহিম ও ভ্যানচালক সিরাজুল ইসলামের বসতঘর শিলাবৃষ্টিতে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝাঁঝরা টিনের ভেতর দিয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ায় পরিবার দু’টি এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বল্প আয়ে সংসার চালানোই কঠিন, ঘর মেরামতের টাকা এখন কোথায় পাবো! ক্ষতিগ্রস্ত আবদুর রহিম খান বলেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে আছি।
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুরের পীরগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাত ২টার দিকে ঝোড়ো বাতাস আর শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজের বীজসহ সবজি ক্ষেত তছনছ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে মানুষের ঘরবাড়ির টিন ছিদ্র হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।