সংক্ষিপ্ত সংবাদ

Printed Edition

বুড়িচংয়ে অবৈধ বাঁধ অপসারণ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি খালে অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। দৈনিক নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাঁধটি কেটে ফেলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। জানা যায়, উপজেলার বাকশিমুল ও যদুপুর গ্রামের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের ওপর রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে। এতে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে তারা দ্রুত বাঁধ অপসারণের দাবি জানান। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে বাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সোনিয়া আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধটি অপসারণ করেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। বাঁধ অপসারণ করায় তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, বাঁধটি বহাল থাকলে বর্ষায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে এমন কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা।

শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা সরকারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাম্মৎ সৈয়দা পারভীনের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন। অভিযোগে বলা হয়, সেই প্রধান শিক্ষিকা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিএসএস (অনার্স) পাসের সনদ ব্যবহার করছেন, যার আইডি, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ থাকলেও সরকারি ওয়েবসাইটে সনদের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এতে সনদটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বিদ্যালয়ে যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষার মান উন্নয়নের আহ্বান জানান স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষিকা নিজ ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন এবং অর্থের বিনিময়ে বাইরের লোকদের শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিদ্যালয়সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারেও বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও খুবই কম বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা পারভীন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার স্বামী অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আরিফুল্লাহ জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা।

এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারল না শিক্ষার্থী

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার চকরামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপুর অবহেলা ও গাফিলতির কারণে নাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, এমন অভিযোগ উঠেছে। ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে অ্যাডমিট কার্ড দেয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার জন্য নাইম ইসলামের কাছ থেকে ফরম ফিলাপ ও কেন্দ্র ফি বাবদ তিন হাজার টাকা নিজ হাতে গ্রহণ করেন প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু। তবে পরবর্তীতে তার ফরম পূরণ করা হয়নি এবং তাকে অ্যাডমিট কার্ডও দেয়া হয়নি। ভুক্তভোগী নাইম ইসলাম জানায়, সে পাকেরহাটে অবস্থিত ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। তবে তার রেজিস্ট্রেশন করা হয় চকরামপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। টেস্ট পরীক্ষার পর ফরম ফিলাপের জন্য ট্যালেন্ট সার্চ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে গেলে তাকে চকরামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে টাকা জমা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপুর হাতে টাকা প্রদান করা হয়। নাইম জানায়, পরীক্ষার দুই দিন আগে স্কুলে গিয়ে সে জানতে পারে তার অ্যাডমিট কার্ড আসেনি। এমনকি তার ফরম ফিলাপও করা হয়নি। এতে তার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম লিপু বলেন, নাইম ইসলামের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি তার মনে ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারকে ডেকে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। খানসামা (দিনাজপুর) সংবাদদাতা।

পেটে লাথি মেরে সন্তান হত্যা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক গৃহবধূকে মারধরের ঘটনায় গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত সন্তান প্রসবের পর বিচার দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার গত বুধবার রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ বীথি আক্তার (২৫) চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমজান মিয়ার মেয়ে। তার মা মাকসুদা আক্তার বাদি হয়ে চারজনকে আসামি করে অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন- আমির হোসেন (৩৫), বসির উদ্দিন (৩৫), নয়ন মিয়া (৩০) ও আব্দুর রশিদ (৪০)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে মাকসুদা আক্তার তার দুই মেয়ে বীথি ও জোসনা আক্তারকে নিয়ে চনপাড়ার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, বাড়ির উঠানে কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন করছে। এ সময় তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা হামলা চালিয়ে মাকসুদা আক্তার ও তার মেয়েদের ওপর মারধর করে। এতে গর্ভবতী বীথি আক্তারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, তলপেটে আঘাতজনিত কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বীথি আক্তারের পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মারা যায়। বুধবার তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন। এ ঘটনায় পুলিশ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, গর্ভবতী নারীকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া

হবে। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা।

দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসভিত্তিক দলিল লেখকদের সংগঠন ‘কুলিয়ারচর দলিল লেখক সমিতি’র নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে কনক কান্তি রায়কে সভাপতি, দেলোয়ার হোসেন শহীদকে সাধারণ সম্পাদক এবং জামাল উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১১ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসসংলগ্ন সমিতির কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে এ কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির বিদায়ী সভাপতি হীরা মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক কনক কান্তি রায়। মেয়াদ শেষ হওয়ায় পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে উপস্থিত ২২ জন সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক রতন কান্তি রায়, প্রচার সম্পাদক সেলিম মিয়া এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন হীরা মিয়া, ফরহাদ উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন। কমিটি ঘোষণার পর নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা।