কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মিরসরাই ও কাউখালীতে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামের মিরসরাই ও পিরোজপুরের কাউখালীতে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে গেছে। গত শনিবারের ঝড়ে গাছ উপড়ে ও খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় দুই উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান, পোলট্রি খামার এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিস মাঠপর্যায়ে মেরামতের কাজ চালালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় সংযোগ স্বাভাবিক করতে বিলম্ব হচ্ছে।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, হঠাৎ কালবৈশাখীতে উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গত শনিবার দুপুরের পর থেকে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিকেল পর্যন্ত ১০ হাজার গ্রাহক এখনো অন্ধকারেই রয়েছেন। জানা গেছে, ঝড়ে ওচমানপুর, সোনাপাহাড় ও আবুরহাট এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দু’টি খুঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে, সাতটি হেলে পড়েছে এবং দু’টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ৩০-৪০টি স্থানে তার ছিঁড়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক দিকে তীব্র গরমে লোডশেডিং, অন্য দিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পোলট্রি খামার ও এসএসসি পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে লাইনম্যানদের কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর ডিজিএম হেদায়েত উল্লাহ জানান, ঝড়ে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি থামলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে শিয়ালকাঠি ইউনিয়নসহ তিনটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে অন্তত পাঁচটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং অসংখ্য তার ছিঁড়ে গেছে। এ ছাড়া চিড়াপাড়া পারসাতুরিয়া ও সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

প্রাথমিক হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় হাসপাতালসহ জরুরি সেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাউখালী পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। বিদ্যুৎ কর্মীরা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করছেন। অধিকাংশ এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তবে কিছু এলাকায় সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগতে পারে।