সার্ক কোটা বাতিলের দাবি ফুটবলারদের

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সর্বশেষ পেশাদার লিগ কমিটির সভায় সার্ক কোটা বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মানে আগামী সিজনে সার্কভুক্ত দেশের ফুটবলাররা দেশী পরিচয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে খেলতে পারবেন কি না। তবে দেশী ফুটবলারদের জন্য এই সার্ক কোটা এখন আরেক আতঙ্ক। চলতি সিজনেই প্রতি ক্লাবে পাঁচজন করে সার্ক কোটা খেলানোর নিয়ম। যারা ‘দেশী’ কোটায় খেলছেন। সাথে অন্য দেশগুলোর তিনজন। যারা খেলছেন বিদেশী পরিচয়ে। এতে দেশী ফুটবলারদের কপাল পুড়েছে। এদের যেমন ক্লাবগুলো নেয়নি, আবার খেললেও কম টাকায়। এদের বিকল্প সার্ক কোটায় ভরসা ক্লাবগুলোর। এ দিকে ১ জুন থেকে শুরু হবে আগামী ফুটবল মৌসুমের দলবদল। লিগ কমিটি এখনো চূড়ান্ত করেনি ফের সার্ক কোটায় বিদেশীদের ‘দেশী’ বানাবে কি না। অবশ্য এই বিষয়ে এখন থেকেই স্বোচ্ছার ফুটবলাররা। তাই গতকাল দুপুরে হঠাৎ বাফুফে ভবনে হাজির জাতীয় দলে খেলা মোহাম্মদ ইব্রাহিম, রহমত মিয়া, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও মেহেদী হাসানসহ ২৫-৩০ জন ফুটবলার। তারা বাফুফে সেক্রেটারির সাথে দেখা করে আগামী সিজনে সার্ক কোটা বন্ধের দাবি জানান। বাফুফে সভাপতি বরাবরই তাদের এই আবেদন।

পাঁচ-ছয় বছর আগেও বাংলাদেশের ফুটবলে রমরমা ভাব ছিল। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংস, সাইফ স্পোর্টিং, ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র বড় বাজেট নিয়ে নামত। এতে কোনো কোনো ফুটবলারের পারিশ্রমিক কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারী হানা দেয়ার পর শুরু হয় ফুটবলাদের পারিশ্রমিকের বাজারে বড় ধাক্কা। এক বছরতো লিগই শেষ করা সম্ভব হয়নি। সে বছর ঠিক মতো টাকাই পাননি ফুটবলাররা। পরের বছর কম টাকায় খেলতে বাধ্য হওয়া। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্লাবগুলোর অর্থ ভাণ্ডারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দুই শীর্ষ ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং লে. শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব দলই গড়েনি। পেটে ভাতে দল গড়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। পরপর দু’টি বড় ধাক্কা যখন ফুটবলারদের আয় রোজগারের পথ সঙ্কুচিত করে দিয়েছিল তখনই সার্ক কোটা। গত বছর হঠাৎ সার্ক কোটা নামে পাঁচ বিদেশীকে-দেশী পরিচয়ে খেলানোর নিয়ম করে বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি। যা পরে বাফুফে অনুমোদনও করে।

এতে দেশী ফুটবলারদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ ক্লাবগুলো তখন কম পয়সায় এই সার্ক কোটার নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানি ফুটবলারদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। স্থানীয়দের রাখে উপেক্ষার কাতারে। সেই সাথে প্রতি ক্লাবে বয়সভিত্তিক ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন ও তাদের খেলানোরও বাধ্যবাদকতা দেয়া হয়। যার ফলে সিনিয়র ফুটবলারদের উপর খড়গটা নামে। একে তো ক্লাব থেকে এই ফুটবলারদের তেমন টাকা দেয়া হচ্ছে না তার উপর সার্ক কোটার কারনে দেশী পরিচয়ের বিদেশীদের কারনে তাদের প্রতি ক্লাবের অনাগ্রহ। জাতীয় দলে খেলা এবং নেদারল্যান্ডসের ক্লাবে ট্রায়াল দিতে যাওয়া হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ক্লাব পাননি বাংলাদেশ ফুটবল লিগে। তাকে খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল ওয়ান্ডারার্সে। আরেক মিডফিল্ডার সোহেল রানাও ( দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও ছেলে হারানো) খেলছেন ওয়ান্ডারার্সে। এভাবে চললে আগামী সিজনেও সুজান পেরেরো, অনন্ত তামাংদের জন্য ক্লাব পাবেন না দেশী ফুটবলাররা। যার বিরূপ প্রভাব পড়বে তাদের ক্যারিয়ারে এবং জাতীয় দলে। তাই এবার দলবদলে আগেই স্বোচ্ছার তারা।

কাল বাফুফে এসে ঢাকা আবাহনী ও জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের দেশের তিন বিদেশী। সাথে বয়সভিত্তিক এক খেলোয়াড়কে খেলানোর বাধ্যবদকতা। একটি দলে যদি সার্কের পাঁচ বিদেশী অন্য দেশ গুলোর তিন বিদেশীকে খেলানো হয় তাহলে সেই দলে দুইজনের বেশি দেশী ফুটবরার খেলালোর সুযোগ পায় না। তাই আমরা সার্ক কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’ মোহামেডানের ডিফেন্ডার রহমত মিয়ার মতে, আমাদের দেশের শুধু তারিক কাজী ভুটান লিগে খেলতে গেছে। অন্য দেশে আমাদের কোনো ফুটবলার খেলার আমন্ত্রণ পায় না। অথচ অন্য দেশের ফুটবলাররা ঠিকই আমাদের দেশে খেলছে। তাই আমরা বাফুফের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে খেলোয়াড়রা লিগে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি করাসহ, বিদেশী কোটা কমানো এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক নিশ্চয়তার দায়িত্ব ফুটবল ফেডারেশনকে নেয়ার দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, দেশী ফুটবলাররা বেশি পারিশ্রমিক চায়, তাই তাদের সাইজ করতেই সার্ক কোটায় বিদেশীদের দেশী বানানো হয়। এটা পেশাদার লিগ কমিটিরই এক কর্মকর্তার বক্তব্য। আর এতে ক্লাব হীন হয়ে পড়েন অনেক ফুটবলার। যদি নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানি ফুটবলারদের মতো বাংলাদেশী খেলোয়াড়ারও এই দেশগুলোর লিগ খেলার সুযোগ পেতেন তাহলে মানা যেত। কিন্তু ভুটানের পারো এফসি ছাড়া আর কোনো ক্লাবই বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের ডাকেনি। আসলে ওই দেশগুলোর ক্লাবগুলোর এত টাকা নেই যে, তারা বাংলাদেশী ফুটবলারদের উচ্চমূল্যে নেবে।