যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুলবশত বিতাড়িত ব্যক্তির সাথে মার্কিন সিনেটরের সাক্ষাৎ
Printed Edition
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত এল সালভাদর বংশোদ্ভূত কিলমার আবরেগো গার্সিয়ার সাথে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে স্বীকার করেছেন, কিলমারকে ভুল করে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড থেকে বিতাড়িত করে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিলমারের সাথে সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ম্যারিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। মার্কিন এক ফেডারেল বিচারকের আদেশ সত্ত্বেও কিলমারকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই সাক্ষাতের পর কিলমারকে মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে। তিনি বলেছেন, কিলমার দেশটির কারা হেফাজতেই থাকবেন। হোয়াইট হাউজের অভিযোগ, কিলমার ট্রান্সন্যাশনাল সালভাদোরিয়ান গ্যাং এমএস-১৩-এর সদস্য।
এমএস-১৩ যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন। কিলমারের আইনজীবী হোয়াইট হাউজের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি এমন একসময় ঘটল, যখন অভিবাসন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও দেশটির বিচার বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
গত বুধবার অন্য একটি মামলায় এক মার্কিন বিচারক বলেছেন, বিতাড়ন ফ্লাইটের জেরে প্রশাসনকে আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি বলেছি, আমার এ সফরের মূল লক্ষ্য ছিল কিলমারের সাথে দেখা করা। আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে আমার সেই সুযোগ হয়েছিল। আমি তার স্ত্রী জেনিফারকে ফোন করে তার (কিলমার) ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আমি দেশে ফিরে আসার পর পূর্ণ হালনাগাদ তথ্য জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
এল সালভাদরের সেন্টার ফর দ্য কনফাইনমেন্ট অব টেররিজমে (সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার) বন্দী আছেন কিলমার। মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন জানান, এ দিন কারাগারটিতে কিলমারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় সশস্ত্র রক্ষীরা তাকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।
সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন কয়েক দিন ধরে এল সালভাদরে অবস্থান করছেন। তিনি কিলমারের মুক্তির জন্য কাজ করছেন। তার অঙ্গরাজ্যেই বসবাস করে আসছিলেন কিলমার। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট এক্সে (সাবেক টুইটার) সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সাথে কিলমারের সাক্ষাতের ছবি রিপোস্ট করেন। এই রিপোস্টে তিনি কিলমারের সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগকে উপহাস করেছেন বলে মনে হয়।
গত ১২ মার্চ মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিই মেরিল্যান্ডে চলন্ত গাড়ি থেকে কিলমারকে গ্রেফতার করে। কোনো ধরনের নোটিশ, আইনিপ্রক্রিয়া বা শুনানি ছাড়াই তিন দিনের মাথায় গত ১৫ মার্চ তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিশোর বয়সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কিলমারের বয়স এখন ২৯ বছর। ২০১৯ সালে আরো তিন ব্যক্তির সাথে মেরিল্যান্ডে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় একজন অভিবাসন বিচারক তাকে বিতাড়ন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে বিচারক বলেছিলেন, কিলমারকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে স্থানীয় সন্ত্রাসী দল তার ক্ষতি করতে পারে।