আর কোনো লাশের দাবিদার না থাকায় উদ্ধারকাজ শেষ
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি
Printed Edition
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় আর কোনো নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান গতকাল সন্ধ্যায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একইসাথে যে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়েছিল সেটি সরিয়ে পানির নিচে অধিকতর তল্লাশি চালিয়েও কিছু পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে পন্টুনটি সরিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, ‘সবশেষ নিখোঁজ দাবি করা ইটভাটা শ্রমিক রিপনের সন্ধান মিলেছে ঢাকায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। ফলে বর্তমানে আর কোনো নিখোঁজ ব্যক্তি নেই। এজন্য উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।’ তিনি জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনটি সরিয়ে উদ্ধারকারীরা পুনরায় তল্লাশি চালান।
তবে শনিবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত যে স্থানে পন্টুন থেকে বাসটি ডুবে গিয়েছিল মূলত সেই পন্টুন সরিয়ে ওই স্থানের অতলে ডুবুরি দল তল্লাশি চালায়। এ ছাড়াও স্পিডবোট দিয়ে নদীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়, কোনো লাশ ভেসে গেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে। কিন্তু কোথাও কোনো লাশ পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি নিয়ে গতকাল চর্তুথ দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালায় রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল। জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেয়ান সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চর্তুথ দিনে সকাল ৯টা থেকেই উদ্ধার অভিযান চলেছে এবং এতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দলও অংশ নিয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলার পর কোন লাশের সন্ধান না পাওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সন্ধ্যায় উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়।
এদিকে গতকাল দুপুরে বাসডুবির কারণ উদ্ঘাটনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত দু’টি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একটি কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘দুর্ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’ নিখোঁজের দাবি না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তদন্ত কমিটির কাজে সুবিধা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।