খুলনায় মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা
সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
জলবায়ু পরিবর্তনে শহরে যারা অভিবাসী হয়েছেন তারা মানবেতর জীবনযাপন করেন। রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা যেমন তারা পান না, একইসাথে তাদের সন্তানরা লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য অপরাধীদের খপ্পরে পড়ে তাদের সাথে জড়িত হয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে। সরকার ও সামাজিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
গতকাল খুলনা প্রেস ক্লাবে সমম্বিত সুরক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেস্টনি শক্তিশালীকরণ চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক এক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা উপরোক্ত তথ্যাদি তুলে ধরেন। বেসরকারি সংস্থা কারিতাস বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রকল্প এ সভার আয়োজন করে। সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং খুলনার তিনটি উপজেলায় প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত তথ্যাদি ও সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন খুলনা প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। কারিতাস কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়ক পবিত্র কুমার মণ্ডল। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক।
১৯৯৫ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পিরোজপুর থেকে খুলনা মহানগরীতে অভিবাসী শাহানা বেগম তার জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বলেশ^র নদীর পড়ের বগি গ্রাম থেকে খুলনা এসে প্রথমে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে আশ্রয় নেই। পরে রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমিতে ঘর তুলে আছি। সেখানে অবস্থান নেয়া কয়েক হাজার মানুষের না আছে টয়লেট, না আছে পানি বিদ্যুতসহ কোনো নাগরিক সুবিধা। আমরা পানি বা বিদ্যুৎ বিলের কপি দিতে না পারায় এনআইডি কার্ডেও ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারি না। সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন করা যায় না বলে স্কুলে ভর্তি করা দুরূহ। ফলে সন্তানরা মাদক ও সন্ত্রাসী কাজে জড়িত হচ্ছে।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তৃতা দেন- আবুল হাসান হিমালয়, এরশাদ আলী, এহতেশামুল হক শাওন, দীপংকর রায় প্রমুখ।