এক রাতেই তছনছ ড্রাগনচাষির স্বপ্ন কেটে ফেলা হলো ১৩০০ গাছ

Printed Edition
bangla-2
কেটে ফেলা ড্রাগন গাছ দেখছেন চাষি মোস্তফা : নয়া দিগন্ত

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার পিয়ারাতলা গোরস্থান মাঠে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০টি ড্রাগন ফলের গাছ গোড়া থেকে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী চাষি রিপন মুন্সীর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রিপন মুন্সী মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও পিয়ারাতলা গ্রামের গোলাম মোস্তাফার ছেলে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, চার বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি আর অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাগানটি বড় করেছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এটি শুধু আমার আর্থিক ক্ষতি নয়, আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর স্বপ্নকেও তারা হত্যা করেছে।

বাগানের কর্মচারী মতিন খান জানান, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি বাগান দেখাশোনা করে বাড়ি ফেরেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় বাগানে গিয়ে দেখেন, ১২-১৩ কাঠা জমির সব গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। পুরো বাগানটিই এখন এক ধ্বংসস্তূপ।

এই নৃশংস ঘটনার পেছনে পূর্বশত্রুতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও তার কর্মচারীরা। বাগানের এক কর্মচারী দাবি করেন, কয়েক দিন আগে পিয়ারাতলা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাব্বির নামের এক যুবক তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। সাব্বিরের অভিযোগ ছিল, রিপন মুন্সী তার মামাকে আটকে রেখেছেন এবং এর ফল তিনি দ্রুতই পাবেন। রিপন মুন্সীর দাবি, সাব্বিরের মামা নাজমুলকে সম্প্রতি টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটি ঘটনায় আটকে রাখা হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই বাগান ধ্বংস করা হয়েছে।

রিপন মুন্সী জানান, তার প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর তিনি জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারাতলা এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে এই ঘটনার পর অন্য চাষিদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলাইমান শেখ জানান, তিনি একটি জরুরি সভায় থাকায় বিস্তারিত পরে জানাবেন। তবে থানায় ফিরে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।