আ’লীগকে পুনবার্সনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে : নাহিদ

সেনাবাহিনীর প্রতি পূর্ণ সম্মান রয়েছে : হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
1st--3
জাতীয় নাগরিক কমিটি লালবাগ জোনের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন নাহিদ ইসলাম : নয়া দিগন্ত

আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে আরেকটি ১/১১ হতে দেয়া হবে না। গতকাল রাজধানীর বকশিবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির লালবাগ জোনের ইফতারে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এ দেশে কোনো বিরাজনীতিকরণ হতে দেয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠান নয় দলীয়করণে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হওয়ায় এর আগেও সামরিক শাসন জারি হয়েছিল, যা কাম্য নয়। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, তাদের রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছে।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছে জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাবি প্রতিনিধি জানায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বলেছেন, আমরা আপনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপনাদের অবদানকে আমরা স্বীকার করি। কিন্তু স্বাধীনতার পরে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ক্যান্টনমেন্ট থেকে যেভাবে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে সে সুযোগ থাকবে না। আপনারা ক্যান্টমেন্টেই থাকুন। এ দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে শুধু রাজনীতিবিদরা।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি ঢাকা মহানগরের আয়োজনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা কোনো ইনস্টিটিউটের বিপক্ষে না। আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলোকে আমরা ঠিক করতে চাই। সেনাবাহিনীর ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আপনাদের ওপর এখনো আমরা আস্থা রাখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি আপনারা আমাদের আস্থার প্রতিদান দেবেন। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আওয়ামী লীগ আর ফিরতে পারবে না। কিন্তু আপনারা যদি আওয়ামী লীগের সাথে আপস করেন তাহলে আমাদের মতো মজলুমদের সাথে বেঈমানি করা হবে।

জুলাই গণ-আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে রেখে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলেন তাদের আমরা প্রশ্ন করতে চাই, ২০১৪ সালে যখন ৫৩ আসনে ভোট হয়নি তখন ইনক্লুসিভ ইলেকশন কোথায় ছিল? ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছিল তখন ইনক্লুসিভ ইলেকশন কোথায় ছিল? ২০২৪ এ ডামি নির্বাচন হলো তখন ইনক্লুসিভ ইলেকশন কোথায় ছিল? যে দেশে দুই হাজার মানুষের রক্তের দাগ শুকায়নি, সে দেশে আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেয়া যাবে না। যে বাংলাদেশে শাপলা, পিলখানা, ভারতীয় আগ্রাসনের বিচার, আবরার হত্যাকাণ্ড, জুলাই অভ্যুত্থানের বিচার হয়নি সেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, যে জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করেছিল তাকে জীবন দিয়ে তা পরিশোধ করতে হয়েছে। জামায়াত ইসলামী আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করেছে, তারা তাদের নেতাকর্মীদের ফাঁসির মাধ্যমে তা পরিশোধ হয়েছে। এরপর আবার আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হয়েছে, পিলখানা, শাপলা গণহত্যা ও দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে হয়েছে। আবারো যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হয় আপনার-আমার জীবন দিয়ে তার খেসারত দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সব কিছু হবে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রকাঠামোর বাইরে রেখে। আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা ও আদর্শ এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। আপনারা যদি বিচার করতে পারেন আগামী ১০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ফিরতে পারবে না। এনসিপি যত দিন আছে আওয়ামী লীগকে এ দেশে পুনর্বাসন করার সুযোগ দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগের বিচারের মধ্য দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল না, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের অংশ। ৫ আগস্টের পর ভারতের হাতে থাকা আওয়ামী লীগের সুতা আমরা কেটে দিয়েছি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, আমরা এখনো কিছুই পাইনি। আপনারা এখনো আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে পারেননি। আপনারা অতি দ্রুত বিচারকাজ শুরু করুন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করুন।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, কোনো সাধারণ ঘটনা বা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিদায় হয়নি। গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের বিদায় হয়েছে। সুতরাং আমাদের পুনর্জন্ম হতে পারে কিন্তু আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হবে না। যেই নৌকা ভেঙে বঙ্গোপসাগরে চলে গেছে সেই নৌকাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।

আখতার বলেন, অনেকে ‘ভালো’ আওয়ামী লীগের কথা বলেন। আমরা বলি, ‘লোম বাছতে গিয়ে যেমন কম্বল উজাড় হয়ে যায়, তেমনই আওয়ামী লীগের ভালো নেতৃত্ব বাছাই করতে গেলে আওয়ামী লীগ উজাড় হয়ে যাবে।’ আওয়ামী লীগের কোনো ভালো নেতৃত্ব নেই। আওয়ামী লীগ শাপলা, পিলখানা, ২৪-এর গণহত্যাসহ অন্যান্য গণহত্যা চালিয়েছে তার দায় স্বীকার করেনি। সুতরাং তাদের পক্ষে কেউ দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এ দেশের মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ৭১-এর পরে তারা গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিল। এ দেশের মানুষ যে গণতন্ত্র চেয়েছিল ১৪, ১৮ ও ২৪-এর নির্বাচনে সে গণতন্ত্রের মুখে চুনকালি মেখেছে। আমাদের ভাইয়েরা জীবন দিয়েছিল ফ্যাসিবাদী লীগের হাত থেকে মুক্ত করতে। আমাদের চোখের সামনে যারা মারা গেছে তাদের রক্তের শপথ, আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেবো না। নৌকা ভেঙে বঙ্গোপসাগরে চলে গেছে। সেই নৌকাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। এ দেশের মানুষ মুজিববাদী আদর্শের রাজনীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

সদস্য সচিব বলেন, অভ্যুত্থানের সাত মাস হয়ে গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক কাজ শুরু করেনি। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু করতে হবে। শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী না, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের নামে কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কাজ করতে দেয়া যাবে না। লীগের নিবন্ধন অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে। না হলে ছাত্র-জনতা আবার রাজপথে এসে লড়াই করবে।

সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে চার্টার দিয়েছে, আপনারা সে চার্টারে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করুন। আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণে বিষয়ে আপনাদের অবস্থান স্পষ্ট করুন।

বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিন সরকার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, রফিকুল ইসলাম আইনি প্রমুখ।