ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে দুদক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং মতার অপব্যবহার করে ঋণের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ব্যাংকটির অন্তত আটজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এনআইডি, পাসপোর্ট ও সম্পদ বিবরণী তলব করা হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো: মোমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন বলে দুদক সূত্র জানায়।

অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, আকিজ উদ্দিন মো: সাব্বির, মিফতাহ উদ্দিন কাজী, মো: রেজাউল করিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহের আহমেদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, আবু নোমান মুহাম্মদ শামসুদ্দীনসহ বেশ কজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ব্যাংক লুটের অন্যতম হোতা বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের অন্যতম সহযোগী বলে সূত্র জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সিন্ডিকেট ভুয়া রফতানি বিল ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে সহায়তা করেছে। এর বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের কমিশন নিয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং বিদেশে কানাডা, লন্ডন, দুবাই ও থাইল্যান্ডে সম্পদ গড়েছেন।

বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের কারণেই বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকরা ইসলামী ব্যাংক থেকে তাদের আমানত তুলতে গিয়ে সঙ্কটের মুখে পড়ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের এই বিশাল অনিয়মগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।