যবিপ্রবিতে হলের খাবার খেয়ে ৭০ জনের বেশি ছাত্রী অসুস্থ

মেডিক্যালে নেই নারী চিকিৎসক

Printed Edition

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের খাবার খেয়ে ৭০ জনের বেশি ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা: এম আর খান মেডিক্যাল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেন। তবে এ সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো নারী চিকিৎসককে।

জানা যায়, ওই হলে বুধবার রাতে খাবার খেয়ে ভোর ৪টা থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকেন। এর পর গতকাল সকাল ৯টায় মেডিক্যাল সেন্টার খুললে হল থেকে একের পর এক ছাত্রী এসে সেবা নিতে থাকেন। বেলা ১১টা বাজতেই অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান মেডিক্যাল সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এ সময় দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল ইনচার্জ ডা: মোছা: মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক ডা: নুসরত জামানকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

জানা গেছে, বুধবার রাতে প্রায় ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ের খাবার খান। এর মধ্যে ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। তবে যারা ডাল খায়নি তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে ছাত্রীদের জিম্মি করে রাখা হয়। চার মাসের ফিক্সড টোকেন না কাটলে সিট বাতিলের হুমকি দেয়া হয়। আগে থেকেই মিলের টাকা পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান মেলে না। এ ছাড়া খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন এবং সময় মতো খাবার পানি সরবরাহ করা হয় না, টাকা দিয়ে এমন খারাপ খাবার খেতে বাধ্য করছে হল প্রশাসন। তা ছাড়া অভিযোগ করলে উল্টো দায়িত্ব এড়িয়ে, যে অভিযোগ করে তার ওপর ‘মিল ম্যানেজার’ এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হয়। খাবারের মান খারাপ হওয়ায় অনেকেই টোকেন কাটতে চান না কিন্তু তখন রুমে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়। আবার নিজেরা রান্না করতে গেলেও কুকার নিয়ে সমস্যা করা হয়, নিয়ে গেলে ফেরত দেয়া হয় না।

ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: তারিক হাসান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি, যাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। বুধবার রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, গোশত, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিল। পয়জনিংটি সম্ভবত সেখান থেকে ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং লুজ মোশনে আক্রান্ত। ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থায় একটু জটিল আকার ধারণ করেছে, আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে হয়তো এখানে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না, উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

এ দিকে ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. মোছা: আফরোজা খাতুন বলেন, আমরা কিছুক্ষণ আগে জানতে পারছি ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে। সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিক্যালে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি।

যবিপ্রবি মেডিক্যাল সেন্টারে দায়িত্বরত নারী চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয় জানতে তাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সুযোগ হয়নি। তবে আবাসিক চিকিৎসক ডা: নুসরাত জামান পরে সাংবাদিককে কল করে জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন পরে কথা বলবেন, বলে কল কেটে দেন তিনি।