ঈদযাত্রায় জ্বালানি সঙ্কটের শঙ্কায় ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ সামনে রেখে টানা সরকারি ছুটিতে নাড়ির টানে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ছুটছেন লাখো মানুষ। গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে যাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি ও ভিড়।

যাত্রাপথে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আগেভাগেই ট্যাংক পূর্ণ করে নিচ্ছেন। এতে স্টেশনগুলোতে চাপ আরো বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জিপ ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। মতিঝিলের ইত্তেফাক মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় ও শাপলা চত্বরসংলগ্ন স্টেশনগুলোতে দুপুরের দিকে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

যানবাহন চালকদের অভিযোগ, জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যদিও সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে অনেক জায়গায় পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, গুজবের কারণে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি নেয়ার প্রবণতাই দীর্ঘ সারির অন্যতম কারণ। তবে সকাল ১০টার আগে এবং ইফতারের পর ভিড় কুলনামূলক কম থাকে।

রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় পরিবহন চলাচলে প্রভাব পড়ছে। গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক বাস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যেতে পারছে না। ফলে ঈদযাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

টিকিট বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি সংগ্রহে দেরি হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে বাস সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে না। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহের চাপ ও বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঈদের মতো বড় ভ্রমণ মৌসুমে এমন পরিস্থিতি যাত্রী ও চালকদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।