প্রার্থনা-ভালোবাসায় বড়দিন উদযাপন

Printed Edition
first-4
খ্রিষ্টানদের বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন গতকাল নানান আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে। যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে এ উৎসব।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জপমালা রানীর গির্জায় প্রার্থনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বড়দিন উদযাপন করছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষরা। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে গির্জাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গির্জায় গিয়ে দেখা যায়, ঢুকতেই সামনে লাল-সাদা পোশাকে সান্তা ক্লজের আদল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাশেই ‘মেরি ক্রিসমাস’ লেখা সাজসজ্জা। সেখানে ছবি তুলছেন অনেকেই। গির্জার ঠিক সামনে শিশু যিশু কোলে মা মেরির ভাস্কর্য। তার পাশেও বড় করে লেখা ‘মেরি ক্রিসমাস’। গির্জার ভেতরে ও প্রাঙ্গণে বানানো হয়েছে ‘গোশালা’, যেখানে যিশু জন্ম নিয়েছেন।

রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে থাকেন লিনা গোমেজ। মেয়েকে নিয়ে প্রার্থনায় এসেছেন তিনি। প্রার্থনা শেষে গোশালার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, শিশু যিশুর কাছে অনেক চাওয়া আর আশা থাকে। সেসব প্রত্যাশা যেন পূরণ করেন, আজকে সেই প্রার্থনা করেছেন তিনি। শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য প্রার্থনা করেছেন। বিশেষ করে যাদের চাকরি নেই তারা যেন চাকরি পান, অসুস্থরা যেন সুস্থ হন, দুঃখীদের যেন দুঃখমোচন ঘটে।

এ গির্জায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের সাথে বড়দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তারা চান, সব সম্প্রদায়ের সবাই যেন তাদের ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান নির্ভয়ে ও আনন্দে পালন করতে পারেন। এটাই সত্যিকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পার্বত্য বান্দরবান জেলার বিভিন্ন গির্জায় শুরু হয় বিশেষ প্রার্থনা। এ ছাড়া রাঙ্গামাটির নির্মলা মারিয়া গির্জা, বন্ধু যিশু টিলা, ব্যপিস্ট চার্চসহ বিভিন্ন এলাকার গির্জাগুলো সাজানো হয় আলো, ফুল ও বর্ণিল সাজে। ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা অংশ নেন বিশেষ প্রার্থনা, কীর্তনে। দেশ, জাতির কল্যাণে করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

কীর্তন শেষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় কেক কাটা, গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। আনন্দ ভাগাভাগি করতে একে অপরের বাসায় বাসায় যান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।

সাধু যোসেফ ধর্মপল্লীর প্রধান পুরোহিত ফাদার মাইকেল রয় বলেন, বড়দিন মানেই শান্তি, ভালোবাসা আর মানবতার বার্তা। আমরা চাই সবাই মিলে এই আনন্দ উপভোগ করুক।