ঢামেকে জটিল এমআরআই হয় না
সাধারণগুলোর রিপোর্ট পেতে ৬ দিনও লেগে যায়
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) রেডিওলজি বিভাগের এমআরাই মেশিনে সব পরীক্ষা হয় না। যেগুলো হয় সেগুলোর রিপোর্ট পেতে হলে ছয় দিনও অপেক্ষা করতে হয়। অথচ বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট কয়েক ঘণ্টা পরই পাওয়া যায়। অন্য দিকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি বিভাগ থেকে এমআরআইর রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যায়। জানা গেছে, ডিএমসিএইচের এই এমআরআই মেশিন ব্যবহার হয় শুধুমাত্র হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ (ইনডোর) রোগীদের জন্য। আউটডোর কিংবা বাইরের রোগীরা ডিএমসিএইচের এমআরআই মেশিনের সেবাটা পান না। ইনডোর রোগীদেরও সবাই এই সুবিধাটি পান না। ডিএমসিএইচের রেডিওলজি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা বলছেন, মাত্র অল্প কয়েকটি টেস্টই এই এমআরআই মেশিন থেকে করা যায়, সবগুলো হয় না, জটিল হলেতো নয়-ই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেডিওলজি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটা একটা পুরনো মেশিন। ২০১৬ সালে মেশিনটি কেনা হলেও এটা ছিল আরো অনেক পুরনো। জানা গেছে, টেন্ডারে যেভাবে কোট করা হয়েছে সেভাবে মেশিনটি আসেনি। নানাজনের সমঝোতায় একটি অনেক পুরনো মেশিন আনা হয়। সে কারণে তখনকার সময়েই ঢাকা মেডিক্যালের বড় কর্তারা এই মেডিক্যালে এমআরআই করাতেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মেডিক্যালের তৎকালীন কর্মকর্তাদের বরং ধন্যবাদই দেয়া উচিত। অনেক পুরনো হলেও একটা এমআরআই মেশিন তারা এনেছেন। গত স্বৈরাচার আমলে অন্য হাসপাতালে তো কেবল মেশিনের বক্স এসেছিল, ভেতরে কোনো মেশিন ছিল না। এই হাসপাতালে যেটা এসেছে সেটা অনেক পুরনো, এই আর কি।
জানা গেছে, ঢাকা মেডিক্যালের রেডিওলজি বিভাগে বর্তমানে যে মেশিনটি আছে তা জাপানি মেডিটেল কোম্পানির। কিন্তু ২০১৬ সালের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ফলে শুরু থেকেই এই মেশিনটি নিয়ে যথেষ্ট অভিযোগ ছিল। এখন কেবল নির্দিষ্ট কিছু টেস্ট করা যায়। রেডিওলজি বিভাগের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জটিল পরীক্ষার মধ্যে শুধু ব্রেইন ও স্পাইনের এমআরআই করা যায়, অন্য কোনো জটিল এমআরআই করা হয় না।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা: মো: নজরুল ইসলাম প্রশ্নের জবাবে বলেন, মেশিন একটু উইক (দুর্বল), ফলে ১৫-২০টার বেশি পরীক্ষা করা যায় না। জটিল পরীক্ষা হলে ২-৩দিন সময় লাগে রিপোর্ট দিতে। এখানে শুধুমাত্র ইনডোর পেশেন্টের এমআরআই করা হয় অ্যাডভাইস অনুসারে। আউটডোর পেশেন্টের টেস্ট এখানে করানো হয় না।’ মেশিনটি কোন কোম্পানির এবং কখন সংগ্রহ করা হয়েছে, তখনকার সময়ের সর্বাধুনিক না হয়ে এটা অনেক পুরনো মেশিন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে ডা: মো: নজরুল ইসলাম বলেন, কাগজ না দেখে এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব না।
রাজবাড়ি জেলার একজন রোগী, তিনি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে তিনি গত ২১ এপ্রিল এমআরআই করিয়েছেন কিন্তু এই রোগীকে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে ২৬ এপ্রিল। এর মধ্যেই ওই রোগীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দিলে তিনি বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হন। তার আত্মীয়রা ২৬ এপ্রিল রিপোর্টসহ ফিল্ম নিয়ে গেছেন।’ একজন ডাক্তার বলেন, মেশিনটি এত খারাপ যে সঠিক রিপোর্ট পেতে নিয়মিত মেডিক্যাল বোর্ড করে রিপোর্ট দিতে হয়। এর মধ্যেই জটিল রোগীদের রিপোর্ট নিয়ে ছাত্রদের শেখানোর ব্যাপারটি আছেই। সে কারণে রিপোর্ট পেতে দেরি হয়।
এ ব্যাপারে ডা: নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ একটি নতুন এমআরআই মেশিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে। নতুন মেশিন আনা হলে হয়তো সব ধরনের টেস্টই করা যাবে।