ছড়িয়ে পড়ছে দূষণ
সাগরে ভেসে উঠছে মরা মাছ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতে প্রায়ই ভেসে উঠছে মরা মাছ। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে বিরল প্রজাতির সংখ্যাই বেশি, যা সমুদ্রের অন্য প্রাণীর জন্যও গুরুতর হুমকি।
Printed Edition
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে দূষণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এর ফলে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতে প্রায়ই ভেসে উঠছে মরা মাছ। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে বিরল প্রজাতির সংখ্যাই বেশি, যা সমুদ্রের অন্য প্রাণীর জন্যও গুরুতর হুমকি।
মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ : বিশেষজ্ঞদের মতে, সাগরে মাছ মৃত্যুর পেছনে চারটি প্রধান কারণ রয়েছে। এগুলো হলো- দূষণ, রোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন।
শিল্পকারখানার বর্জ্য, রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য দূষিত উপাদান সাগরে মিশে পানির গুণমান নষ্ট করছে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি- এ সবই মাছের জীবনচক্রে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
নদীপথে দূষণের স্রোত : গবেষণা বলছে, কর্ণফুলি, মেঘনা, মাতামুহুরী, হালদা ও বাকখালীসহ বিভিন্ন নদী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও শিল্পবর্জ্য বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে।
কর্ণফুলি নদীর তীরে অবস্থিত শতাধিক শিল্পকারখানা সরাসরি বর্জ্য ফেলছে নদীতে।
সাগরে তেল দূষণ বাড়াচ্ছে সমুদ্রগামী জাহাজ ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিষাক্ত রাসায়নিক।
তেলের মিশ্রণ ও জাহাজ দূষণ : বহিঃনোঙরে জ্বালানি খালাসের সময় এবং জাহাজ পরিষ্কারের ফলে তেল নিঃসরণ হয়ে সমুদ্রের পানিতে মিশে যাচ্ছে। কর্ণফুলির মোহনা ও উপকূলজুড়ে এ তেল দূষণের মাত্রা বাড়ছে।
ভয়াবহ প্লাস্টিক বর্জ্য সঙ্কট : জাতিসঙ্ঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা (ইউনেপ) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে পড়ছে। উপকূলের জেলেদের মতে, ধরা মাছের পেটে প্লাস্টিক পাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদীপথে সাগরে পৌঁছে দূষণ সৃষ্টি করছে।
জীববৈচিত্র্যের জন্য সতর্কবার্তা : পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন ‘পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক-পলিথিন, শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক ও তেলজাতীয় পদার্থ সমুদ্রের অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করছে।
এর সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা বেড়ে জলজ প্রাণীর আবাস অযোগ্য হয়ে উঠছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলজ সম্পদ মারাত্মক হুমকিতে পড়বে।’