সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition
3rd-3
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে না দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরিকৃত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-এনসিটি (যেখানে কোনো বিনিয়োগের দরকার নেই) কেন বিদেশীদের দেয়া হবে তা বোধগম্য নয়। আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণ এবং দেশের স্বার্থে, চট্টগ্রাম বন্দরের চালুকৃত টার্মিনাল এনসিটি পতন হওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের এজেন্ডা অনুযায়ী বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। একই সাথে এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনারও দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে নগর জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির শাহজাহান চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডা: এ কে এম ফজলুল হক, সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব, বন্দর ইসলামী শ্রমিক সঙ্ঘের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইয়াছিন, শ্রমিক নেতা আদনান প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি ও রফতানির ৯২% কাজ হয়ে থাকে। আমরা মনে করি, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সাথেও জড়িত। তা ছাড়া বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক বন্দর খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি আধুনিক টার্মিনাল হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হয়ে উঠেছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে। এতে এক হাজার মিটার দীর্ঘ বার্থ রয়েছে যেখানে একই সাথে পাঁচটি জাহাজের মালামাল উঠানামার কাজ করতে পারে এবং ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে রয়েছে ২৬ হেক্টর জায়গার ওপর উন্নত প্রযুক্তি সংবলিত ইয়ার্ড। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল আয় আসে এই এনসিটি টার্মিনাল হতে। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এনসিটি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ আয়ের পাশাপাশি রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা পূর্বের বছরের তুলনায় ৭.৩৭% বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় বর্তমানে এই চালু টার্মিনাল নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যদি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যূত্থান না হতো, তাহলে এতদিনে এই এনসিটি টার্মিনালটি বিদেশীদের হাতে চলে যেত। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলেও সরকারের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন, বর্তমান সরকারকে বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন তথ্য দিয়ে দেশের রাজস্ব খাত শেষ করার জন্য এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার জন্য এনসিটি টার্মিনাল বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।